কৃষি খবর ডেস্ক: প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বরাদ্দ কমে এসেছে চার ভাগের এক ভাগে। তার ওপর জ্বালানি তেলের চড়া দাম। এমন বাজেট সংকট নিয়ে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের অভিযানে নামছে বরিশালের মৎস্য বিভাগ।

মৎস্য কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পের অর্থ প্রবাহ বন্ধ থাকায় সীমিত বাজেটে এত দীর্ঘ অভিযান চালানো এবং স্থানীয় প্রভাবশালীদের মদদ ছাড়া জেলেদের নদী থেকে দূরে রাখা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার (৭ অক্টোবর) দিনগত রাত ১২টা থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানান প্রস্তুতি।

মা ইলিশ সংরক্ষণে বরিশালের মেঘনা তীরবর্তী হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর। তবে এসব এলাকায় অভিযান পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ ও জনবল নেই বলে জানিয়েছেন মৎস্য কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কাছ থেকে কতটা সহযোগিতা পাওয়া যাবে, তা নিয়েও তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতারা এবার জেলেদের নদীতে না নামানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। হিজলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলতাব হোসেন খোকন দপ্তরী বলেন, তারা ওরাকুল মাছঘাটে জেলেদের নিয়ে সভা করেছেন। সেখানে কাউকে হুমকি বা ধমকি না দিয়ে নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে না যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক দিপেন জমাদ্দার জানান, মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা টাস্কফোর্সের সভা হয়েছে। সেখানে নৌ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইলিশ সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মা ইলিশ রক্ষায় তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

মেহেন্দীগঞ্জে দায়িত্ব পালনকারী মুলাদী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ‘একই সঙ্গে দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করা কঠিন। তার ওপর কোনো প্রকল্প না থাকায় বরাদ্দের সংকট রয়েছে। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা নিয়ে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।’

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জের মেঘনা নদীতে এবার দুটি লঞ্চ রাখা হবে। পাশাপাশি স্পিডবোটও থাকবে। নদীতীরবর্তী ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদেরও অভিযানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা চলছে। এজন্য প্রতিটি ঘাট থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে পাঁচজন করে জনবল নেওয়ার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। তবে সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম। বরিশাল নগরের অন্যতম বড় ইলিশের মোকাম পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এমন চিত্র দেখা গেছে।

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার নাসির উদ্দিন জানান, হঠাৎ করেই ইলিশের দাম বেড়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) প্রতি মণ ইলিশের দাম চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের এলসি সাইজের ইলিশের দাম ছিল দুই হাজার ৩০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে দুই হাজার টাকা কেজি।