কৃষি খবর ডেস্ক: উত্তরের তিস্তা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে এখন পাকা আমন ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা। তবে ঠিক এই সময়েই তিস্তার পানির উচ্চতা কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। ফলে ফসল ঘরে তোলার আগমুহূর্তে পাকা ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলার চরাঞ্চলের কৃষকেরা।

রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীর তিস্তা নদীবেষ্টিত ১৮০টি চরে এবার আমন চাষ হয়েছে প্রায় ২২ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগের হিসাবে, ফলনও হয়েছে ভালো। কিন্তু নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে নিচু জমির পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের বিভিন্ন জমিতে আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। আর কয়েক দিনের মধ্যেই অনেক জমির ধান কাটার কথা। এর মধ্যেই তিস্তার পানির ওঠানামা উদ্বেগ বাড়িয়েছে কৃষকদের।

চরাঞ্চলের অনেক জমি নদীর কাছাকাছি ও নিচু হওয়ায় পানি বাড়লে দ্রুত প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাকা ধান পানিতে ডুবে গেলে ঘরে তোলার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন কৃষকেরা।

হরিশ্বর গ্রামের কৃষক জাহেদুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনের সময় নদীতে পানি না থাকলেও ফসল ঘরে তোলার সময় পানি বেড়ে গেলে তাদের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। কয়েক দিনের মধ্যেই তার ধান কাটার কথা থাকলেও ততদিন পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।

গদাই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলামও একই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। সারা বছরের পরিশ্রমে ফলানো ধান এখন ঘরে তোলার অপেক্ষায়। এই সময়ে নদীর পানি বেড়ে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

ভোটমারী চরের কৃষক সাহানুর রহমানের অভিজ্ঞতাও সুখকর নয়। গত বছর তিস্তার পানিতে তার সাড়ে তিন বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়েছিল। এবার তিনি সাত বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। তাই ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত নদীর পানির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।

কৃষি বিভাগও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক রয়েছে। রংপুর আঞ্চলিক কৃষি কর্মকর্তা আবু বকর সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগাম জাতের পাকা ধান দ্রুত কেটে নেওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পুরো চরাঞ্চলের কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের পর তিস্তার পানির উচ্চতায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। তাই নদীর পানি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হলে কৃষকদের আগাম সতর্ক করার পাশাপাশি দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকদেরও দাবি, আমন ঘরে না ওঠা পর্যন্ত তিস্তার পানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। পানি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিলেই চরাঞ্চলের কৃষকদের দ্রুত জানানো হলে আগেভাগে ধান কেটে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হবে।