কৃষি খবর ডেস্ক: একসময় গরিব মানুষের পরিচিত খাবার ছিল কলার মোচা ও থোড়। আধুনিক যুগে ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের ভিড়ে আড়ালে চলে যায় পুষ্টিকর এই খাবার। অনেকে এগুলো ফেলেও দিতেন। তবে আবারও সবজির বাজারে জায়গা করে নিচ্ছে কলার মোচা ও থোড়। এমনকি শৌখিন ও স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মাঝে জায়গা করে নিচ্ছে এই খাবার।

কলার মোচা ও থোড়ের তরকারি অ্যানিমিয়া বা রক্ত স্বল্পতা দূর করে, প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে উচ্চমাত্রার ফাইবার বা আঁশ, যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যেতে দেয় না। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি আদর্শ সবজি।

মোচার ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পরিপাকতন্ত্রকে পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কলার থোড়ের রস কিডনির পাথর প্রতিরোধে এবং লিভার সুস্থ রাখতেও ভূমিকা রাখে। ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম কিন্তু পেট অনেকক্ষণ ভরিয়ে রাখে এই খাবার, যা ওজন কমানোর জন্য সহায়ক। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদযন্ত্র ভালো রাখে।

বাঙালির রান্নাঘরে মোচা ও থোড় দিয়ে চমৎকার সব মুখরোচক পদ তৈরি করা হয়। যার মধ্যে কলার মোচার ঘণ্ট জনপ্রিয় খাবার। এটি চিংড়ি মাছ, ডালনা বা গোবিন্দভোগ চাল দিয়ে তৈরি অন্যতম সেরা একটি বাঙালি পদ। বিকেলের নাশতার জন্য মোচা সেদ্ধ করে বেশন দিয়ে মশলা মিশিয়ে চমৎকার চপ বা কাটলেট তৈরি করা যায়।

কালোজিরা, কাঁচামরিচ ও নারিকেল কোড়া, চিংড়ি মাছের শুঁটকি দিয়ে থোড় ভাজি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। অনেকে ডাল ও ডিম দিয়েও রান্না করে থাকেন। কেউ আবার খালি পেটে থোড়ের রস জুস হিসেবে পান করেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. আনিছুজ্জামান বলেন, ‘আগে চাষের কলার মোচা ও থোড় মানুষ খেতে চাইতো না। এখন বাজারে মোচা ও থোড় নিয়মিত বিক্রি হয়। ফেরি করে যারা সবজি বিক্রি করেন, তারাও মোচা ও থোড় বিক্রি করেন। মানুষের খাদ্যাভাসে পরিণত করা গেলে মোচা ও থোড় খাদ্য ঘাটতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।’

সূত্র: জাগো নিউজ