কৃষি খবর ডেস্ক: কোটচাঁদপুরের গ্রামগুলোতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে পাট নিয়ে চাষিদের দৌড়ঝাঁপ। কেউ পাট কাটছেন,কেউ বা পাট জাগ দিচ্ছেন। আবার কাউকে দেখা যাবে পাট ও পাট কাটি সড়কের পাশে সারিবদ্ধ ভাবে  রোদে শোকাচ্ছে। এ সব দেখলেই যে কোন মানুষের  মনে হবে আবারও ফিরতে শুরু করেছে সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের সোনালী দিন। এ উপজেলায়  যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে আবাদ,তেমনি ভাল উৎপাদন ও দাম পেয়ে  খুশি চাষিরাও। সামনে দিনে  পাটের আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন কৃষি অফিসার জাহিদ হোসেন। 

জানা যায়, গেল ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে কোটচাঁদপুরে  পাটের আবাদ হয়েছিল ৩৫৪ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন হয়েছিল  ৮৩২ মেট্রিক টন পাট। যা হেক্টর প্রতি ২.৩৫  মেট্রিক টন পাট। চলতি মৌসুমে   (২০২৫-২৬) অর্থ বছরে পাটের আবাদি জমির পরিমান একই রয়েছে  ৩৫৪ হেক্টর।  তবে বৃদ্ধি পেয়েছে পাটের উৎপাদন। যা গেল বছরে তুলনায়  উৎপাদন বেড়েছে ৮ মেট্রিক টন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়,কোটচাঁদপুর  উপজেলায় ৫ টি  ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা রয়েছে । সব জায়গাতে পাটের কম বেশি আবাদ শুরু হয়েছে। তবে এই উপজেলার গ্রামগুলোতে ঢুকতেই চোখে পড়বে পাটের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলোর মত পাট নিয়ে চাষিদের ব্যস্ততা। বৃদ্ধি পেয়েছে পাটের আবাদ। অন্যদিকে পাটের ভাল উৎপাদন ও দামেও খুশি চাষিরা। 

বকসিপুর গ্রামের পাট চাষি শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরের মত এই বছরও ৩ বিঘা পাটের আবাদ  ছিল আমার। বিঘা প্রতি ১০/১২  মন পাটের ফলন ও হয়েছে। আর পাট কাঠিও বিক্রি করেছি ৭ হাজার টাকায়। তিনি বলেন, প্রতি বছরই দুই এক বিঘা জমিতে পাটের চাষ থাকে। পাটের আবাদ শুরুর থেকে বাড়ি তোলা পর্যন্ত বিঘা প্রতি ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়। সেখানে পাট আর পাট কাটি বিক্রি করে আমরা পাচ্ছি ৪০/৪২ হাজার টাকা। এরপরও আমাদের তেমন কিছু থাকছে না। কারন চাষের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা কম লাভবান হচ্ছি। তারপরও আমরা চাষি,চাষ আমাদের করতেই হবে। তবে উৎপাদন ও পাটের দামে খুশি ওই চাষি।

ওই গ্রামের সোহেল রানা বলেন,এ বছর দুই বিঘা জমিতে পাটের চাষ ছিল। উৎপাদন ভাল হয়েছে। আর গেল বছরের তুলনায় দামও ভাল। 

তিনি বলেন,পাটের আবাদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার টাকার মত ব্যয় হয়। এ বছর আমি সর্বশেষ ৩৭/৩৮ শ টাকা টাকায় পাট বিক্রি করেছি। যা গেল বছরের তুলনায় বেশি আছে। এ ছাড়া পাট কাঠিরও ভাল দাম হওয়ায় পাট চাষ করে আমরা লাভবানও হয়েছি।

 উপজেলা কৃষি অফিসার জাহিদ হোসেন বলেন, এ বছর এই উপজেলায় ৩৫৪ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যে চাষিরা তাদের উৎপাদিত পাট সংগ্রহ করেছেন। আমার জানামতে চাষিরা পাট ও পাট কাঠি বিক্রি করে বিঘা ৫০ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। আর পাটের আবাদ  চাষিদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারন পাটের আবাদ করলে জমির উর্বরতা ঠিক থাকে। এ কারনে ওই জমিগুলোতে অল্প সার ব্যবহার করে ভাল ফসল উৎপাদন করা যায়। এ কারনে গেল বছরের তুলনায় এ বছর পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। সামনের দিনে আরো আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছি।