কৃষি খবর ডেস্ক: পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পঞ্চগড়ের প্রান্তিক কৃষকেরা নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তেঁতুলিয়ায় কালো ধানের পরীক্ষামূলক চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।
ধানের শিষ কালো হওয়ায় ব্যতিক্রমী এই ধান দেখতে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের জায়গীরজোত এলাকায় কৃষক শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করেছেন ‘ব্ল্যাক রাইস’ বা কালো ধান। প্রচলিত ধানের বাইরে নতুন এই ধানের আবাদ ঘিরে কৌতূহলের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। ফলন ও বাজারমূল্য অনুকূলে থাকলে কালো ধান তেঁতুলিয়ার কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কৃষক শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম জানান, অনলাইনে কালো ধান চাষের বিষয়ে জানতে পেরে তিনি এ আবাদে আগ্রহী হন। পরে অনলাইনের মাধ্যমে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দরে বীজ সংগ্রহ করে ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন। বর্তমানে ধানের শীষ পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কালো রং ধারণ করছে।
শাহরিয়ার শান্ত ইসলাম বলেন, ‘প্রথমে ধানের গাছ সবুজ থাকলেও পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধানের শীষ কালো হয়ে যায়। নিজের জমিতে এমন ব্যতিক্রমী ধান চাষ করতে পেরে ভালো লাগছে। ফলন ও লাভের সম্ভাবনা ভালো হলে ভবিষ্যতে আরও জমিতে কালো ধানের চাষ করতে চাই।’
স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, তেঁতুলিয়ায় এর আগে তারা এ ধরনের কালো ধানের চাষ দেখেননি। নতুন এই ধান দেখতে অনেকেই খেতের পাশে ভিড় করছেন। একই সঙ্গে এর চাষপদ্ধতি ও ফলন সম্পর্কে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।
পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, কালো চাল পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। প্রচলিত চালের তুলনায় এর বাজারমূল্যও সাধারণত বেশি। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের নতুন ফসল চাষে আগ্রহী করে তুলছে। তবে কালো ধানের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণের আগে উৎপাদন খরচ, ফলন, বাজারের চাহিদা ও বিক্রির নিশ্চয়তা যাচাই করা জরুরি। উৎপাদন বাড়লে বাজারদরে পরিবর্তন আসার সম্ভাবনাও রয়েছে। কৃষকদের এ চাষে আগ্রহী করতে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে গবেষণাও জোরদার করা হচ্ছে।






