কৃষি খবর ডেস্ক: প্রকৃতিতে আসতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। কমছে রোদের তীব্রতা, আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শীতকালীন শাকসবজি চাষের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা। আগাম সবজি বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশায় মাঠে নেমেছেন কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চাষিরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চলছে জমি তৈরি, সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার ও চারা রোপণের কাজ। কোথাও কৃষকেরা নিজেরাই পরিচর্যা করছেন, আবার কোথাও শ্রমিক নিয়োগ করে আগাম সবজি উৎপাদনের প্রস্তুতি চলছে।

মাঠের বিভিন্ন জমিতে মূলা, পালংশাক, লালশাক, ডাঁটাশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, আলু, সরিষা, মরিচ, বেগুন, ধনিয়া, মিষ্টিকুমড়া ও গাজরসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসলের আবাদ হচ্ছে।

মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকার কৃষক রমজান এবার ৪০ শতাংশ জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।

অন্যদিকে, জালালপুর ইউনিয়নের পূর্ব ফেকামারা গ্রামের কৃষক হেকিম জানান, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়া যায়। তবে এ ধরনের চাষে জমি প্রস্তুত, সার, সেচ এবং রোগবালাই দমনে বাড়তি খরচ করতে হয়। বাজারদর প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে লোকসানের আশঙ্কাও থাকে।

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার কৃষকেরা আগাম শীতকালীন সবজি চাষ শুরু করেছেন। উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ ও রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমাতে সঠিক জাত নির্বাচন, মাটি উপযোগী সার ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করা জরুরি।

তিনি আরও জানান, মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

সব মিলিয়ে, শীতের মৌসুম সামনে রেখে আগাম সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কটিয়াদীর কৃষকেরা। এখন অনুকূল আবহাওয়া ও ভালো বাজারদরের ওপর নির্ভর করছে তাঁদের কাঙ্ক্ষিত লাভ।