কৃষি খবর ডেস্ক: আশ্বিনের শুরুতেই পাকা ধানের হলুদ রঙে বদলে গেছে খাগড়াছড়ির রিছাং ঝরনার লাগোয়া উঁচু পাহাড়ের চূড়াগুলো। চৈত্র-বৈশাখ থেকে পাহাড়ে জুম চাষ শুরু করেছিলেন চাষিরা। এবার ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে তাদের।
জুমের ক্ষেতে ধানের পাশাপাশি হলুদ, আদা, মারফা, মিষ্টি কুমড়া, তিল, চিনাল, মরিচ, বেগুনসহ নানা ধরনের ফসল আবাদ করেন পাহাড়ি চাষিরা। এসব ফসলের একটি অংশ পরিবারের খাদ্য চাহিদা মেটাতে এবং বাকিটা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহে ব্যবহার করা হয়।
তবে গত কয়েক বছরে খাগড়াছড়িতে জুম চাষের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, ফলের বাগান ও সেগুনসহ বিভিন্ন বাগান সম্প্রসারণ, জমির সংকট এবং জুমচক্র ছোট হয়ে যাওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ সালে খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে জুম চাষ হয়েছিল। ২০২৫-২৬ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫০ হেক্টরে।
অন্যদিকে জুমচাষিদের উৎপাদন বাড়াতে নতুন ধানের জাত নিয়ে গবেষণায় সাফল্যের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট। গবেষণায় ব্রি-৮৩ স্থানীয় কয়েকটি জাতের তুলনায় বেশি ফলন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
জুম চাষ শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর খাদ্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। তাই জুমচাষিদের কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি, কৃষি সহায়তা, প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।




