জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া: উত্তরাঞ্চলের শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত বগুড়ায় এখনো শীতের আগমনী বার্তা পুরোপুরি শুরু হয়নি। তবে আগাম শীতকালীন সবজির সবুজ সমারোহে ভরে উঠেছে জেলার মাঠ জুড়ে। শিম, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মূলাে চাষে। বাড়তি লাভের আশায় আগাম সবজি উৎপাদনে ব্যস্ত সময় পার করছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় গত কয়েক মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ থেকে ৬ হাজার হেক্টর জমিতে। ইতোমধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। অক্টোবরের শেষ দিকে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছেন তারা। আগাম সবজির পর মূল শীতকালীন মৌসুম শুরু হলে জেলায় সবজি চাষের মোট জমির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার হেক্টরে পৌঁছাতে পারে। এ বছর প্রতি বিঘায় সবজি চাষে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। হেক্টরপ্রতি ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ১৭ মেট্রিক টন।

শীতকালিন সবজি প্রচুর পরিমানে চাষ হয়ে থাকে এই জেলায়। শীত আসার আগে স্থানীয় চাষিরা আগামজাতের সবজি চাষ করে থাকেন। আগামজাতের সবজিতে বেশি লাভবান হওয়া যায় বলে চাষিরা বেশি অগ্রহী হয়ে পড়েছেন। জেলায় এখনো শীত মৌসুম শুরু না হলেও শীতের সবজি চাষ শুরু হয়েছে। বগুড়া সদর, শিবগঞ্জ, শাজাহানপুর, শেরপুর, ধুনট, নন্দীগ্রাম, সারিয়াকান্দি, সোনাতলা, গাবতলী ও কাহালুসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আগাম শীতকালীন সবজির চাষ হচ্ছে। উঁচু জমিতে সারি সারি সবজির চারা রোপণ, সেচ, আগাছা পরিষ্কার ও পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক পরিবারগুলো। ভোরের আলো ফুটতেই কেউ জমিতে কাজ করছেন, আবার কেউ ক্ষেত থেকে সবজি তুলে বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালংশাক, মূলা, গাজর ও শিমের মতো আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত চাষপদ্ধতি ব্যবহারের ফলে সবজি উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে তদারকির মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব এলাকার কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, আগাম সবজি চাষে ঝুঁকি থাকলেও লাভের সম্ভাবনাও বেশি। অন্য ফসলের তুলনায় এতে খরচ ও শ্রম বেশি লাগে। তবে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগাম সবজি ভালো দামে বিক্রি করে লাভবান হওয়া সম্ভব।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান ফরিদ জানান, আগাম সবজির ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ার প্রত্যাশায় জেলার হাজারো কৃষক পরিবার নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। আগাম জাতের সবজি চাষে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।