কৃষি খবর ডেস্ক: বাজারে এখন যেসব হলুদ মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর বড় অংশ আসছে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে। দেশ দুটি থেকে প্রতি কেজি মাল্টা সর্বোচ্চ ৭০ সেন্টের কাছাকাছি দরে আমদানি হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। কিন্তু সেই মাল্টা এখন চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি। 

কোথায় কত টাকা যোগ হচ্ছে, তা জানতে আমদানি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, মূল্যবৃদ্ধির বড় একটি অংশ তৈরি হচ্ছে আমদানি পর্যায়েই। কারণ, মাল্টার ওপর মোট শুল্ক-কর ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এরপর আছে পরিবহন ও আনুষঙ্গিক ব্যয়। 

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, শুল্ক–কর বাড়ানোর পর থেকে মাল্টা আমদানি ধারাবাহিকভাবে কমেছে। ২০২১–২২ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৯৪ হাজার টন মাল্টা আমদানি হয়েছিল। পরের অর্থবছরে শুল্ক–কর বাড়ানোর পর আমদানি কমে ২ লাখ ২০ হাজার টনে নামে। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে তা আরও কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ৭৩ হাজার টনে। এরপর ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৫৩ হাজার টন মাল্টা আমদানি হয়। 

চট্টগ্রামের ফলমন্ডির ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পাইকারিতে মাল্টা বিক্রি হয়েছিল ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। এরপর দ্রুত দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ১৫ কেজির কার্টন ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অর্থাৎ পাইকারিতেই দাম ওঠে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি।

আমদানি করা ফলের ওপর সব সময় এত বেশি শুল্ক-কর ছিল না। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাল্টাসহ বেশ কিছু ফলের মোট করভার ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ। ডলার-সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০২২ সালের মে মাসে ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়।

এই মূল্যবৃদ্ধি এমন সময়ে হয়েছে, যখন দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন এবং মারা গেছেন ২৪৫ জন। সেপ্টেম্বরেই রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে আমরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছি। বুধবার ফলমন্ডিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

সূত্র: প্রথম আলো