কৃষি খবর ডেস্ক: প্রভাবশালী একটি গ্রুপের হুমকির কারণে মতিঝিলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) দপ্তরে সার পরিবহনের দরপত্রে কেউ অংশ নেয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার দেশের অভ্যন্তরে ৭৫ হাজার টন এমওপি সার পরিবহনের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।

প্রভাবশালী একটি গ্রুপের হুমকিতে আতঙ্কিত হয়ে কোনো পরিবহন ঠিকাদারই দরপত্রে অংশ নিতে সাহস করেননি। বিএডিসি কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার জানিয়েছে, সার পরিবহনে আবার দরপত্র আহ্বান করা হবে। দরপত্র বিলম্বিত হওয়ায় ইতিমধ্যেই সংকটে পড়া সার সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিএডিসি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সার ব্যবস্থাপকের অফিসে এসে হুমকি দেওয়া হয়। বলা হয়, তাদের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া কেউ যেন দরপত্র জমা না দেয়। কামাল হোসেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে দিনভর বিএডিসিতে অবস্থান করেন। বিএডিসির সূত্রটি বলেছে, পরে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ফোন করে জানায়, ‘নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া’ তারা যেন দরপত্র জমা না দেন।

একাধিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) যেসব সদস্য সার পরিবহন ঠিকাদারির সঙ্গে যুক্ত, তাদের মধ্যে আগে থেকেই আতঙ্ক তৈরি করা হয়। কৃষক দলের এক শীর্ষ নেতার নাম ব্যবহার করে এমন বার্তা দেওয়া হয়, যাতে কেউ দরপত্রে অংশ নিতে বিএডিসি দপ্তরে না যান। এর প্রভাবেই দরপত্র জমার দিন কেউ বিএডিসি দপ্তরে যাননি।

অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি কামাল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সময় ম্যানেজ করতে না পারায় আমরা নিজেরাই টেন্ডারে অংশ নিতে পারি নাই। কেউ কাউকে হুমকি দেয়নি। আর এখানে সীমিত যে কয়টি প্রতিষ্ঠান পরিবহনের কাজ করে, তারা সবাই পরস্পরের পরিচিত।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে গতকাল বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম ও জিএম (সার ব্যবস্থাপনা) আজিম উদ্দিনের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁদের পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি।

সূত্র: আজকের পত্রিকা