কৃষি খবর ডেস্ক: অনেকেই প্রশ্ন করে মোরগ ছাড়াই কি মুরগি ডিম পাড়ে? হ্যাঁ; মোরগ ছাড়াই মুরগি ডিম পাড়তে পারে। ডিম পাড়ার জন্য মুরগির সঙ্গে মোরগের মিলন হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। স্ত্রী মুরগির শরীরে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ডিম্বাণু তৈরি হয়। সেই ডিম্বাণু ধীরে ধীরে ডিমের কুসুমে পরিণত হয় এবং প্রজননতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এর চারপাশে সাদা অংশ, খোসার ভেতরের পর্দা ও শক্ত খোসা তৈরি হয়। এরপর ডিমটি বাইরে বেরিয়ে আসে।
মোরগের সঙ্গে মিলন না হলেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। তাই যে খামারে শুধু মুরগি রয়েছে, সেখানেও নিয়মিত ডিম পাওয়া সম্ভব। তবে মুরগির বয়স, জাত, খাবার, আলো এবং শারীরিক অবস্থার মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ডিম পাড়ার হার নির্ভর করে। তবে ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার জন্য মোরগের শুক্রাণু দিয়ে ডিম নিষিক্ত হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ, মোরগ ছাড়া পাড়া ডিমগুলো অনিষিক্ত হয় এবং এ থেকে কোনো বাচ্চা ফোটে না।
ডিম পাড়া আর ডিম থেকে বাচ্চা জন্মানো এক বিষয় নয়। এর মূল পার্থক্য হলো নিষেক। মোরগের সঙ্গে মিলনের পর মুরগির প্রজননতন্ত্রে শুক্রাণু পৌঁছালে তা ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত হতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় নিষেক। নিষিক্ত ডিমে ভ্রূণ বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়।
নিষেকের পর ডিম তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ডিমের কুসুম ভ্রূণের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। সাদা অংশও পানি ও প্রোটিনের উৎস হিসেবে কাজ করে। শক্ত খোসা ডিমের ভেতরের অংশকে সুরক্ষা দেয় এবং এর সূক্ষ্ম ছিদ্র দিয়ে গ্যাসের আদান-প্রদান হতে পারে।
তবে নিষিক্ত ডিম পাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ভেতরে পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা তৈরি হয়ে যায় না। উপযুক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতায় ডিমকে নির্দিষ্ট সময় ধরে তা দিতে হয়। মুরগি সাধারণত প্রায় ২১ দিন ডিমে তা দেওয়ার পর ছানা ফোটায়। তবে তাপমাত্রা ও পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে এটি সামান্য কম-বেশি হতে পারে। এই সময় ভ্রূণ ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে বাচ্চায় পরিণত হয়।
বাজারের সব ডিম থেকেই ছানা বের হয় না। সাধারণভাবে খাওয়ার জন্য উৎপাদিত অধিকাংশ ডিম নিষিক্ত নয়। কারণ বাণিজ্যিক ডিম উৎপাদনের অনেক খামারে মোরগ রাখা হয় না। ফলে মুরগি ডিম পাড়লেও তাতে ভ্রূণ তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না।
অন্যদিকে যে খামারে মোরগ ও মুরগি একসঙ্গে রাখা হয়, সেখানে নিষিক্ত ডিম পাওয়া যেতে পারে। তবে নিষিক্ত হলেই প্রতিটি ডিম থেকে ছানা বের হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ডিমের গুণমান, সংরক্ষণের অবস্থা, তাপমাত্রা এবং তা দেওয়ার পরিবেশের ওপরও ভ্রূণের বিকাশ নির্ভর করে।






