কৃষি খবর ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। বাংলা এই শব্দের অর্থ সমুদ্র বা সাগর। এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নাম প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। ঝড়টির প্রভাবে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার উপকূলীয় এলাকায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাংলাদেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস
ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব শুরু হয়েছে। ঝড়টির প্রভাবে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের পাশাপাশি ওড়িশার উপকূলীয় এলাকাতেও ঝড়ের প্রভাব পড়ছে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেভাবে ঘূর্ণিঝড়ের নাম হয়
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এবং জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের অধীনে উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশ নাম প্রস্তাব করে।
প্রতিটি দেশ ১৩টি করে নাম প্রস্তাব করায় মোট ১৬৯টি নামের তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। ২০২০ সালে তালিকাটি চূড়ান্ত হয়। ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে তালিকার ক্রমানুসারে নাম ব্যবহার করা হয়। এবারের ঝড়ের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তাব করা ‘অর্ণব’ নামটি ব্যবহৃত হয়েছে।
নামকরণের উদ্দেশ্য কী?
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো সতর্কবার্তা সহজে প্রচার করা এবং জনসাধারণকে ঝড় সম্পর্কে সচেতন করা। নির্দিষ্ট নাম থাকলে আবহাওয়াবিদ, সংবাদমাধ্যম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ সহজে ঝড়টি শনাক্ত করতে পারেন। একই সময়ে একাধিক ঝড়ের খবর প্রচার হলেও বিভ্রান্তি কমে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের নামের সঙ্গে এর তীব্রতা, গতিপথ কিংবা কোথায় আঘাত হানবে—তার কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।






