কৃষি খবর ডেস্ক: আগাম টমেটো বিক্রি করে ঋণের টাকা পরিশোধের স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রান্তিক কৃষক গিরিধন সরকার। কিন্তু কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগের পর নষ্ট হয়ে গেছে তার ২৫০ শতক জমির টমেটো ক্ষেত। প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। অসুস্থ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই কৃষক।

ঘটনাটি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের। পরিবারের অভিযোগ, কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধির পরামর্শে ওষুধ কিনে জমিতে প্রয়োগ করার পরই টমেটো গাছগুলো সাদা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে পুরো ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক গাছের গোড়ায় পচন ধরেছে।

পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে ওষুধ কিনতে মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডারে যান গিরিধন। সেখানে অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ কেনেন তিনি। পরে জমিতে সেই ওষুধ স্প্রে করার পরই গাছের ক্ষতি শুরু হয় বলে দাবি পরিবারের।

আগাম জাতের টমেটো চাষে এনজিও ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করেছিলেন গিরিধন। গাছে ফুল আসতে শুরু করায় ভালো ফলনের আশায় ছিলেন তিনি। প্রতিদিন তার জমিতে কাজ করতেন ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক। কিন্তু চোখের সামনে পুরো ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের টাকা পরিশোধ ও সংসারের খরচ চালানো নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

পরিবারের দাবি, ফসলের ব্যাপক ক্ষতির দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন গিরিধন। পরে তাকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। যে ফসল বিক্রি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ফসলই এখন তার পরিবারের অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গিরিধনের ভাই ও সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সরকারি প্রণোদনার মাধ্যমে কীভাবে সহযোগিতা করা যায়, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার বলেন, বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগ করায় টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকও ওষুধের বোতল যাচাই না করে প্রয়োগ করার কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।