কৃষি খবর ডেস্ক: ধানখেতে পোকা দমনে কীটনাশকের বদলে পাখিকেই কাজে লাগাচ্ছেন কৃষকরা। ধানখেতে গাছের ডাল ও বাঁশের কঞ্চি পুঁতে রাখার সহজ কৌশল পার্চিং পদ্ধতিতে উপকৃত হচ্ছেন দিনাজপুরের আমনচাষিরা। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড় দমনের পাশাপাশি কমছে উৎপাদন খরচ, সুরক্ষিত থাকছে পরিবেশ। দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন।

দিনাজপুর সদর উপজেলার প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ধানখেতে পুঁতে রাখা ডালে বসে দোয়েল, ফিঙে ও শালিকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলে। ফলে ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।

এতে ঘাসফড়িং, চুঙ্গি, পাতা মোড়ানো ও মাজরা পোকার আক্রমণ কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়। পাশাপাশি কমে চাষের খরচ ও কীটনাশকের ওপর নির্ভরতা।

সদর উপজেলার কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, এবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ২২ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কৃষকরাও বলছেন, ধানখেতে পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার করে তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন। জমিতে পুঁতে রাখা ডালে পাখি বসে পোকামাকড় খাওয়ায় ফসল রক্ষায় এটি সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হয়ে উঠেছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, পার্চিং পদ্ধতি পরিবেশ দূষণ কমাতে এবং কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ফসলি জমিকে সুরক্ষিত রাখতে ভূমিকা রাখছে। গত কয়েক বছর ধরে দিনাজপুরে এ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

দিনাজপুর জেলায় এবার ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বৃষ্টিপাত ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর বেশি জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলে এবার জেলায় আমনের ভালো ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।