জেলা প্রতিনিধি, পাবনা: পূর্ব বিরোধের জেরে পাবনার ঈশ্বরদীতে সরকারি নীলামকৃত জমিতে আবাদ করা ৬২ বিঘা জমির কলা ও গাজরসহ বিভিন্ন ফসল কীটনাশক দিয়ে ধ্বংস এবং গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের চর কুরুলিয়া গ্রামের ডিক্রির চরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল আওয়াল বাদী হয়ে ২৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার চর প্রতাপপুর গ্রামের মোঃ আব্দুল আওয়াল (৩১), মোঃ বাপ্পি হোসেন (৩৩), মোঃ রেজা উদ্দিন মালিথা (৪৫) ও মোঃ বিপুল জোয়াদ্দার (৩২)—এই চার কৃষক মিলে ডিগ্রীর চর এলাকায় সরকারি নীলামকৃত ৬২ বিঘা জমি শান্তিপূর্নভাবে ভোগ-দখল ও চাষাবাদ করে আসছিলেন। এর মধ্যে ৪৪ বিঘা জমিতে কলা এবং ১৮ বিঘা জমিতে গাজরসহ বিভিন্ন সবজির আবাদ ছিল।

অভিযোগে বলা হয়, এলাকার আজাদ মালিথা, আবু কালাম মালিথা, হান্নান সরদারসহ অভিযুক্ত ২৫ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করে আসছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর আনুমানিক ভোর ৫টার দিকে আসামিরা বেআইনিভাবে জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করে কীটনাশক স্প্রে করে এবং কলার গাছ কেটে আবাদকৃত ফসল ধ্বংস করতে থাকে। খবর পেয়ে ভুক্তভোগী কৃষকরা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং খুন-জখমের হুমকি দেয়।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোঃ আব্দুল আওয়াল বলেন, "আমরা চারজন মিলে অনেক কষ্ট ও ঋণ করে এই ৬২ বিঘা জমিতে ফসল ফলিয়েছিলাম। কিন্তু আসামিরা শত্রুতা করে বিষ স্প্রে করে এবং গাছ কেটে আমাদের প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। এখন আমরা পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

এ বিষয়ে জানতে প্রধান অভিযুক্ত আজাদ মালিথা বলেন, গত কয়েক বছরে ওই মাঠে আমি বা আমাদের কেউ যায়নি। পায়ে হেঁটে ঘাটে যাবার পর শুধু নৌকাতেই ৫-৬ ঘন্টা লাগে ওখানে যেতে। বলা চলে ওখানে যাওয়া কিছুটা অসম্ভব। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে এধরণের মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। মূলত যারা অভিযোগ তুলেছেন তাদের সাথে আমাদের একটি পূর্ব বিরোধ রয়েছে, সেটির জেরেই এরকম অভিযোগ তুলছেন।

এব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে ফসল নষ্টের অভিযোগে মামলা নেয়া হয়েছে। পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ফসল ধ্বংসের এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ কৃষকরা।