কৃষি খবর ডেস্ক: আমন ধানের আবাদের মাঝামাঝি সময়ে এসে শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামালপুরের কৃষকেরা। নদীঘেরা চরাঞ্চলে টমেটো, বেগুন, লাউ, ফুলকপিসহ নানা সবজির আবাদ ঘিরে চলছে জমি তৈরি, বীজ বপন ও চারা রোপণ। তবে এ ব্যস্ততার মধ্যেই প্রয়োজনমতো সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষকেরা। অন্যদিকে, জেলায় সারের পর্যাপ্ত বরাদ্দ রয়েছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের। ফলে বরাদ্দের সার মাঠপর্যায়ে কতটা পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জামালপুর সদরসহ দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি চলছে। ভালো ফলন ও মৌসুমের শুরুতে বাজারে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার আশায় বাড়তি শ্রম দিচ্ছেন কৃষকেরা। তাদের আশা, অনুকূল আবহাওয়া ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ পাওয়া গেলে এবার ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবেন।

আগাম সবজি চাষে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ বপন, চারা রোপণ, সার প্রয়োগ, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটি ধাপেই বাড়তি যত্ন নিতে হয়। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, বীজ, কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের খরচও বহন করতে হয় কৃষকদের। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এসব খরচের ঝুঁকি নিয়েই আগাম আবাদ করছেন তারা।

তবে সার নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজন অনুযায়ী সার না পাওয়ায় জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সবজির গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো রাখতে নির্দিষ্ট সময়ে সার দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পেলে জমির পরিচর্যায় ব্যাঘাত ঘটে। এতে উৎপাদন খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জামালপুরে ১২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। অন্যদিকে, শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৯৫০ হেক্টর। এরই মধ্যে ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। আমন ধান ও শীতকালীন সবজি উৎপাদনের এই সময়ে সারের চাহিদা ও বরাদ্দের হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, সব ধরনের সারের বরাদ্দ চাহিদার সমান নয়।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত বরাদ্দের কথা বলা হলেও কৃষকেরা তাদের চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ডিলার পর্যায়ে বরাদ্দ, মজুত ও বিতরণের তথ্য যাচাই করা জরুরি। কোন এলাকায় কী পরিমাণ সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, ডিলাররা কতটুকু সার পেয়েছেন এবং কৃষকদের কাছে কী পরিমাণ সার বিক্রি হয়েছে, এসব তথ্য সরবরাহ পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলম শরীফ বলেন, কৃষকদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমাদের পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ আছে এবং রবি মৌসুমের জন্যও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আমরা সেই পরিমাণ সার পাব এবং কৃষকদের মধ্যে সুন্দরভাবে বিতরণ করব। কৃষকেরা নিজ নিজ এলাকার সার ডিলারের পয়েন্টে গিয়ে সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সার সংগ্রহ করতে পারবেন। আমরা কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আছি।