কৃষি খবর ডেস্ক: দুই বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেন হাতেম আলী। সবজি প্রায় বাজারজাত করার উপযোগী হয়ে উঠেছিল। এর মধ্যেই ক্ষেতে দেখা দেয় ছত্রাকের আক্রমণ। এতে বিপাকে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের এই কৃষক। 

হাতেম আলী জানান, দুই বিঘা জমিতে প্রায় দেড় লাখ  টাকা খরচ হয়ে গেছে তার। খরচ এখনও চলছে। খুব ভালো ফলন হবে বলে আশা করছিলেন তিনি। তিন লাখ টাকার কপি বিক্রির আশা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে রোগ দেখা দেওয়ায় ক্ষেতের সবজি সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কোনো বালাইনাশকেও কাজ হচ্ছে না।

এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়বেন বলে আশঙ্কা তার। হামেম আলীর মতো বেশি লাভের আশায় আগাম ফুলকপি চাষ করে বিপাকে পড়েছেন দামুড়হুদা উপজেলার অধিকাংশ কৃষক। 

সরেজমিন উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ ফুলকপির ক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে ছত্রাকজনিক রোগ। 

কৃষকরা জানান, প্রথমে সবজির পাতা আক্রান্ত হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। এরপর ধীরে ধীরে পচে মারা যাচ্ছে পুরো গাছ।

এতে নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা জমির ফুলকপির ক্ষেত। তারা বলছেন, বিভিন্ন ধরনের সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করেও কাঙ্খিত প্রতিকার না পাওয়া যাচ্ছে না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা। 

কৃষকরা বলছেন, মৌসুমের শুরুতে ক্ষেতের ফুলকপির গাছ বেশ ভালোই ছিল। ফলনও আশানুরূপ হওয়ার আশা ছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই গাছের পাতায় রোগ দেখা দেয়। কয়েক দিনের মধ্যেই আক্রান্ত গাছ পচে নষ্ট হতে শুরু করে। পরে আশপাশের জমিতেও তা ছড়িয়ে পড়ে। 

 দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈরী আবহাওয়া এবং জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে এ ছত্রাকজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফসলের মাঠ পরিদর্শন করেছেন। আক্রান্ত জমি রক্ষায় কৃষকদের পরিমিত সার প্রয়োগ ও সঠিক বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

দামুড়হুদা উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, এটি ছত্রাকজনিত রোগ। আক্রান্ত ক্ষেতে পিডিয়েন ও কার্বোনেটজিন ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কৃষকদের এসব ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।