কৃষি খবর ডেস্ক: রাজবাড়ীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে সরকারি সহায়তার চাল পাননি ৭১২ জন ইলিশ শিকারি জেলে। জেলায় ইলিশ শিকারে সম্পৃক্ত নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলে রয়েছেন ৬ হাজার ৩০৪ জন। তবে এবার ৫ হাজার ৫৯২ জনের জন্য চাল বরাদ্দ এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত জেলেরা আবেদন করেও কার্ড পাননি, অথচ ভ্যানচালক, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মতো অমৎস্যজীবীদের নামে কার্ড হয়েছে।
অন্যদিকে মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, বরাদ্দকৃত চাল নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই জেলেদের মধ্যে বিতরণ শুরু হয়। আর বরাদ্দ না আসা জেলেদের অন্য সময় সহায়তা দেওয়া হবে। জেলেদের চালের সঙ্গে অন্যান্য সহায়তার বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কাজ করছে, হয়ত ভবিষ্যতে এটি সমাধান হবে। তাছাড়া জেলে নিবন্ধন সারা বছরই হালনাগাদ হয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে অমৎস্যজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, রাজবাড়ীর ৫ উপজেলার মধ্যে রাজবাড়ী সদর, পাংশা, কালুখালী ও গোয়ালন্দ পদ্মা নদীবেষ্টিত। এসব স্থানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ১০২ জন। এর মধ্যে ইলিশ শিকারের সঙ্গে জড়িত কার্ডধারী জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৩০৪ জন থাকলেও এবার মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের নিষেধাজ্ঞা উপলক্ষে ভিজিএফ সহায়তার চাল বরাদ্দ এসেছে ৫ হাজার ৫৯২ জন জেলের জন্য। ফলে কার্ডধারী হয়েও বরাদ্দ স্বল্পতায় সহায়তার চাল পাচ্ছেন না ৭১২ জন ইলিশ শিকারি।
জেলে শ্রী সন্টু কুমার হলদার বলেন, সারা বছর নদীতে মাছ ধরি। নিষেধাজ্ঞা থাকার ২২ দিন আমাদের বসে থাকার সুযোগ নেই। কারণ মাছ ধরেই আমার সংসার চলে। সংসারে ৫-৬ জন মানুষ। অন্য কোনো কাজ করে যে সংসার চালাব, সে উপায়ও আমার নেই। ফলে জীবিকার তাগিদে এই অভিযানের মধ্যেই আমাদের পালিয়ে পালিয়ে মাছ ধরতে হয়। এই সময়টা মাছ ধরতে পারলে প্রায় ৪ থেকে ৬ মাস ভালো থাকতে পারব। তাছাড়া অভিযানের পর ছোট মাছ ছাড়া আর কোনো মাছ পাওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সরকার ২৫ কেজি করে চাল দেয়, কিন্তু এবার এখনো পাইনি এবং পাব কি না, সেটাও জানি না। আর চালে তো সবকিছু হয় না, সঙ্গে অন্যান্য কত খরচ। সরকার যদি সব দিক দিয়ে সহযোগিতা করত, তাহলে হয়ত আমরা নদীতে নামতাম না।
রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহবুব উল হক বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় বরাবরের মতো এবারো জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, কোস্ট গার্ড, জেলা ও নৌ-পুলিশের সমন্বয়ে নদী ও স্থলভাগে নিয়মিত অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। রাজবাড়ীতে ১৪ হাজার ১০২ জন জেলে থাকলেও ইলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন ৬ হাজার ৩০৪ জন জেলে। সবার জন্য সহায়তার চাহিদা পাঠালেও বরাদ্দ হয়েছে ৫ হাজার ৫৯২ জন জেলের জন্য। চার উপজেলার এই ৫ হাজার ৫৯২ জন ইলিশ শিকারিকে এবার ২৫ কেজি হারে সহায়তার চাল দেওয়া হবে। এরইমধ্যে উপজেলা ও ইউনিয়নে এগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।





