কৃষি খরব ডেস্ক: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিল দাদুড়িয়ায় অনুষ্ঠিত হয়ে গেল পলো ও উচা উৎসব। পলো ও উচা দিয়ে মাছ ধরার এই উৎসবে অংশ নেয় অন্তত পাঁচ শতাধিক মানুষ।
এক সময় গ্রাম এলাকায় বর্ষা মৌসুম শেষে বাঁশের তৈরি পলো দিয়ে নদী, খাল-বিল ও বিভিন্ন জলাশয়ে সারিবদ্ধভাবে মাছ ধরতে দেখা যেত। আর সেই অপরূপ দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হতো গ্রামের সব বয়সি মানুষ। কিন্তু সেই বাংলার ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার চতুল ও শেখর ইউনিয়নে অবস্থিত বিল দাদুড়িয়ায় মাছ ধরতে শত শত মানুষের ঢল নামে। কারো হাতে পলো, কারো হাতে উচা-জালসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ। দূর-দূরান্ত থেকে পলো ও উচা জাল হাতে নিয়ে হেঁটে আনন্দ-ফুর্তি করতে করতে মাছ ধরার উৎসবে অংশ নেয় নানা বয়সি মানুষ।
আয়োজকরা দাবি করেন, স্থানীয় প্রশাসনের আন্তরিকতা থাকলে উন্মুক্ত জলাশয়ে কারেন্ট জাল বা চায়না দুয়ারি দিয়ে দেশি মাছ শিকার বন্ধ করলে সেসব মাছ রক্ষা পেত।
মাছ ধরতে আসা তুষার শেখ বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। ছোটবেলায় পলো দিয়ে মাছ ধরতাম। মাইকিং শুনে বহুবছর পর পলো নিয়ে দাদুড়িয়া বিলে মাছ ধরতে এসেছি। আসলে মাছ না পেলেও অনেক আনন্দ করতে পেরেছি।
পলো দিয়ে মাছ ধরতে আসা আক্কাস আলী বলেন, মাছ ধরার কথা শুনে পেয়ে গতকাল পলো কিনেছি। পলো সচরাচর এখন পাওয়া যায় না। মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছি। চায়না দুয়ারির কারণে খাল-বিলে দেশি মাছ মেলে না। প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেই। আইন আছে কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। তারপরও ভালো লেগেছে, অনেকদিন পর এমন উৎসবে যোগ দিতে পেরে।
পলো ও উচা জাল উৎসবের আয়োজক ইমরান মোল্লা বলেন, এক দিন আগে পলো উৎসবের মাইকিং করা হয়েছে। হারিয়ে যাওয়া এমন উৎসবে যোগ দিয়েছেন শত শত মানুষ। মাছ ধরা বড় কথা নয়, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমাদের এই উদ্যোগ। এই বিলে কারেন্ট জাল ও চায়না দুয়ারি দিয়ে মাছ ধরার কারণেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছ। দেশি মাছ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর ভূমিকায় থাকলে আমাদের খাল-বিলগুলো আবার মাছে ভরে উঠবে



