কৃষি খবর ডেস্ক: টেকসই মৎস্য চাষে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘Brine Shrimp Artemia Aquaculture, GIFT Dissemination and Institutional Collaboration’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক কর্মশালা। ওয়ার্ল্ডফিশ আয়োজিত এ কর্মশালায় বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়ন অংশীদার, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি এবং মৎস্য চাষ বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

কর্মশালায় সিজিআইএআর-এর সাসটেইনেবল অ্যানিমাল অ্যান্ড অ্যাকুয়াটিক ফুডস এবং স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট (এস ফর ইউ) সায়েন্স প্রোগ্রামের আওতায় আর্টিমিয়া চাষ, সমন্বিত লবণ-আর্টিমিয়া-মৎস্য চাষব্যবস্থা এবং গিফট (GIFT-Genetically Improved Farmed Tilapia) তেলাপিয়ার দায়িত্বশীল বিস্তার নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং উদ্ভাবনী মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও পর্যালোচনা করা হয়।

কর্মশালার প্রথম পর্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘আর্টিমিয়া ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। এতে কক্সবাজারের লবণ মাঠে আর্টিমিয়া, চিংড়ি, তেলাপিয়া, কাঁকড়া ও সবজি চাষের সমন্বিত উৎপাদনব্যবস্থা, আর্টিমিয়া সিস্ট ও বায়োমাস উৎপাদন, হ্যাচারিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পুষ্টি-সংবেদনশীল মাছ চাষের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

এ পর্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক প্যাট্রিক সরগেলুস এবং ওয়ার্ল্ডফিশের আর্টিমিয়া বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ মীজানুর রহমান। তাঁরা আর্টিমিয়া গবেষণা ও উন্নয়নের বৈশ্বিক অগ্রগতি, বাংলাদেশের অর্জন এবং ভবিষ্যতে এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে বাংলাদেশে তিন দশকের গিফট তেলাপিয়া উন্নয়ন ও বিস্তারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ গোলাম হোসেন প্রণীত মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এ.এইচ.এম. কহিনুর ও জিল্লুর রহমান।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিকের পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম, মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (ইনল্যান্ড ফিশারিজ) ড. মোতালেব হোসেন এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক (গবেষণা, পরিকল্পনা ও অর্থ) ড. আমিরুল ইসলাম।

আয়োজকদের মতে, এ কর্মশালা বাংলাদেশ, কেনিয়া ও ঘানার অংশীদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এশিয়া ও আফ্রিকায় উৎপাদনশীল, জলবায়ু-সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জলজ খাদ্যব্যবস্থা উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।