কৃষি খবর ডেস্ক: ভোলায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আশার আলো দেখেছিলেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা। কিন্তু বরফকল ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় কোনো স্বপ্নই বাস্তব হয়নি। ফলে কোনো কাজে আসেনি আধুনিক মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি।

এদিকে ভবন হস্তান্তরের প্রায় ৭ মাস পার হয়ে গেলেও এখনো উন্মুক্ত হয়নি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। বর্তমানে এটি স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের আড্ডা দেওয়ার কাজে ব্যবহার হচ্ছে।

ভোলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের দিকে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের কাঠির মাথা মৎস্য ঘাট এলাকায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের মার্চ মাসে এর নির্মাণকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ভোলা মৎস্য বিভাগের কাছে ভবন হস্তান্তর করে। কিন্তু হস্তান্তরের ৭ মাসেও ব্যবসায়ী ও জেলেদের জন্য উন্মুক্ত হয়নি অবতরণ কেন্দ্রটি।

মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু হলে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের মাঝে আনন্দ বিরাজ করে। এতে আধুনিকতার ছোঁয়ার আশা করছিলেন তারা। কিন্তু তাদের সেই আনন্দ ও আশা নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগেই ম্লান হয়ে যায়।

কাঠির মাথার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. আব্বাস ব্যাপারী বলেন, আমাদের ঘাটে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হওয়ার খবরে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শেষে দেখলাম, এখানে মৎস্য ব্যবসায়ীদের জন্য বরফকল, কোল্ডস্টোরেজ, ডিজিটাল স্কেলসহ অন্যান্য মেশিনারিজ কিছু নেই। তাহলে আমাদের কী কাজে আসবে এই মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। আমরা কি পাকা ভবনে মাছ বিক্রি করার জন্য সেখানে যাব? মৎস্য ব্যবসায়ীদের কাজে আসবে এমন কিছু না থাকলে কেন যাব আমরা?

তবে বরিশাল মৎস্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌতম কুমার সাহা সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ঠিকাদারকে সব ভুল ত্রুটি সংশোধন করতে বলা হয়েছে। ঠিকাদার সব করেছে। এছাড়াও নিম্নমানের কাজে হয়নি দাবি করে সাংবাদিকদের ভবনের ম্যাটেরিয়াল টেস্ট করার জন্য বলেন তিনি।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা এটি চালু করার জন্য কাঠির মাথা মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেদের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছি। কিন্তু প্রতিবারই মৎস্য আড়তদার বা ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখানে বরফকলসহ অন্যান্য সুবিধা নেই, তাই তারা সেখানে যেতে চান না। এসব কারণে এটি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।