কৃষি খবর ডেস্ক: শীত নামার আগেই চলনবিলে হাজার হাজার অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এসব পাখি সারাদিন বিলের পানিতে বিচরণ করে, সন্ধ্যা হলেই ঝাঁক বেঁধে গাছে গাছে নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরে। বিলের অল্প পানিতে সাদা বক, গাংচিল, বালিহাঁস, পানকৌড়ি, ডাহুকসহ নানা জাতের অতিথি পাখির ডুব দিয়ে মাছ ধরার দৃশ্য নজর কাড়ে। অতিথি পাখির কোলাহলে চলনবিল এখন মুখর।
নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলাজুড়ে বিস্তৃত চলনবিল। সিংড়া উপজেলার অধিকাংশ জুড়ে এর অবস্থান। বিলের নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের দুপাশে ও সিংড়া-বারুহাস-তাড়াশ ডুবন্ত সড়কে গেলেই সাদা বক, পানকৌড়ি, শামুকখোল, বালিহাঁসসহ নাম না জানা অসংখ্য অতিথি পাখির ডানা মেলে ওড়াউড়ি চোখে পড়ে। কাকডাকা ভোরে বিলজুড়ে দলবদ্ধভাবে অতিথি পাখির বিচরণ যে কাউকেই মুগ্ধ করে।
মাগুড়া গ্রামের কৃষক সহিদুল ইসলাম ও তাজপুর গ্রামের বাবুল হোসেন বলেন, সাদা বক চলনবিলের কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। এ বছর এই বিলে অনেক অতিথি পাখির আগমন ঘটেছে। এর মধ্যে সাদা বক ও শামুকখোল পাখি বেশি চোখে পড়ছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর এই সময় চলনবিলে বক, বালিহাঁস, প্রাণকৌড়ি, শামুকখোলসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন ঘটে। পাখ-পাখালির বিচরণ ও ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এরই মাঝে কিছু লোভী শিকারি ফাঁদ পেতে সেই পাখি শিকারও করে থাকে।
সিংড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম বলেন, চলনবিল জীববৈচিত্র্যে ভরপুর একটি বিল। এই বিলের পাখি ও পরিবেশ রক্ষায় চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সম্প্রতি তাদের সহযোগিতায় প্রশাসন আটজন অসাধু পাখি শিকারিকে জেল-জরিমানা করেছে। বিলের পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসন সব সময়ই তৎপর।





