কৃষি খবর ডেস্ক: রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কালসার ডাড়া বাজারে নকল সার, কীটনাশক ও নিম্নমানের গো-খাদ্য (গরুর ভুসি) তৈরির অভিযোগে ‘মেসার্স মোখলেছুর ট্রেডার্স’-এর গোডাউনে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে ইটের রাবিশ, কাঠের গুঁড়া, কেমিক্যাল ও নামিদামি ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেটসহ সার ও ভুসি তৈরির ১,১২৬টিরও বেশি বস্তা উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত কারখানার মালিক মাইদুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগী আলহাজ মোখলেছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে কালসার ডাড়া সংলগ্ন চাতালে গমের ভুসির সঙ্গে ধানের কুঁড়া ও কাঠের গুঁড়া মিশিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে বিক্রি করে আসছিলেন। এসব নকল পণ্য নিরাপদ রাখতে পীরগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে একাধিক গোডাউন ভাড়া নিয়েছিলেন তারা।
অভিযানের সময় কেঁচো জৈব সার তৈরির আড়ালে এমন বিষাক্ত ও নকল সার-কীটনাশক বানানোর প্রক্রিয়ার সত্যতা পেয়ে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল হোতা মাইদুল ইসলাম বাবুসহ সহযোগীরা কৌশল বদলে পালিয়ে যান।
এ নিয়ে স্থানীয়রা জানান, এত দিন তাদের ধারণা ছিল, সেখানে কোঁচো জৈব সার তৈরির কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে। এ কারণে কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ে তাদের তেমন সন্দেহ হয়নি। তবে প্রশাসনের অভিযানের সময় বিভিন্ন ধরনের নকল সাদৃশ্য সার, বালাইনাশক ওষুধ, ছত্রাকনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ তৈরির সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে তারা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ বলেন, ‘আমরা যে উপকরণগুলো পেয়েছি, সেগুলো পরীক্ষার জন্য রংপুরে পাঠানো হবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকিউল বারী বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালানো হয়।
বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, নকল সাদৃশ্য সার, নকল বালাই ছত্রাক নাশক, রং ক্যামিক্যাল, ইটের রাবিশ, কাঠের গুড়া, খালি প্যাকেট, নামিদামি ব্র্যান্ডের খালি প্যাকেটসহ নানা উপকরণ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো দিয়ে সার, কীটনাশক ও ভুসি তৈরি করা হতো।
প্রাথমিকভাবে কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গোডাউনটি তালাবদ্ধ রাখার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযানে সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল রানা, পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তাজুল ইসলাম, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।





