কৃষি খবর ডেস্ক: সরকার নির্ধারিত নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সারের ডিলার নিয়োগের তালিকায় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের ভাই, চাচাতো শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীর নাম স্থান পেয়েছে। এক্ষেত্রে মানা হয়নি সরকার নির্ধারিত নিয়মনীতি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ডিলারদের তালিকা প্রকাশের পরপরই বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, শুক্রবার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় সার ডিলারের তালিকা প্রকাশ হয়। এতে ৫নং শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের চাচাতো শ্যালক নাজমুল হক মিশুর মেসার্স নাজমুল ট্রেডার্স ও ৬নং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে এমএ মজিদের বড় শ্যালক মাহমুদ হাসান লিটনের স্ত্রী সুরমা হাসানের সাদ ট্রেডার্স ডিলারের তালিকায় স্থান পেয়েছে।
নাজমুল হক মিশু শহরের বিহারী মোড় এলাকায় রড-সিমেন্টের ব্যবসা করে ও সুরমা হাসান গৃহিণী বলে জানা গেছে। তাদের নাম জেলা কমিটির সুপারিশে স্থান পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকায়।
শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাজমুল হক মিসু পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা এবং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া সুরমা হাসান পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক নেতা জানান, জেলা বিএনপির সভাপতির আত্মীয় হিসেবে যদি ডিলার নিয়োগ হবে তাহলে আবেদন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিলেই হয়। নেতাকর্মীরা যারা টাকা খরচ করে আবেদন করেছে তাদের এভাবে আর্থিক ক্ষতি না করলেও হতো। ওই দুই ইউনিয়নে যাদের দেওয়া হয়েছে তারা কখনো সারের ব্যবসা করেননি। এছাড়া তারা কেউ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা না।
শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া নাজমুল হক মিসু জানান, তিনি জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের আত্মীয়। তিনি এর আগে সারের কোনো ব্যবসা করেননি। এছাড়া ওই ইউনিয়নে কোনো প্রতিষ্ঠান ছিল না। গত ৪ মাস আগে তিনি আবেদন করেছিলেন। এরপর বিস্তারিত কথা বলার জন্য তিনি শহরের বিহারী মোড়ের প্রতিষ্ঠানে যেতে বলেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, জেলা কমিটির সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তারা সারের ডিলার নিয়োগ পেয়েছেন। জেলা কমিটি তাদের ব্যাপারে ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের মোবাইলে শনিবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে জানতে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি নোমান হোসেনের মোবাইলে শনিবার দুপুর ১টা ৪৮ মিনিটে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তায় তিনি জানান, সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির কাছে প্রাপ্ত হয়নি। ফলে এ বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।
তবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে যাচাই-বাছাইপূর্বক তিনজনের নাম প্রস্তাব আকারে মন্ত্রণালয় বা কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো নীতিমালার ব্যত্যয়ের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।





