কৃষি খবর ডেস্ক: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ভুট্টার বীজ না কিনলে কৃষকদের সরকারি বরাদ্দের সার দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে সার ডিলার মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রয়োজনীয় সার পেতে কৃষকদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে ভুট্টার বীজ কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন কৃষক।

এতে একদিকে প্রয়োজনের বাইরে কৃষকদের অতিরিক্ত পণ্য কিনতে হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারি সার বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

অভিযুক্ত সারের ডিলার মো. খায়রুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মো. মোজাব্বর হোসেনের ছেলে। খায়রুল ইসলাম নিজেই দুটি বিএডিসি ডিলারশিপ পরিচালনা করেন। এর একটি তার নিজের নামে ‘মেসার্স খায়রুল ইসলাম’ এবং অন্যটি তার স্ত্রী মোছা. আরিফা বেগমের নামে ‘মেসার্স রুফাইদা ট্রেডার্স’।

কৃষকদের অভিযোগ, চলতি মৌসুমে ফসল চাষের জন্য সরকারি বরাদ্দের সার নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের পক্ষ থেকে ভুট্টার বীজ কেনার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বীজ কিনতে রাজি না হলে সার দেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রয়োজনীয় সার পেতে বাধ্য হয়ে তাদের অতিরিক্ত পণ্য কিনতে হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পঞ্চানন্দ পলাশতলা গ্রামের মৃত বাচ্চা মন্ডলের ছেলে কৃষক মো. বাবুল মন্ডল (৫০) বলেন, ‘আমি খায়রুল ইসলামের ঘরে সার নিতে গিয়েছিলাম। তখন তার ছেলে ঘরে ছিলেন। সার চাইলে তিনি বলেন, এক বস্তা বিএডিসির সার নিতে হলে চার প্যাকেট ভুট্টার বীজ নিতে হবে। আমি বলি, এখন তো আমার কাছে এত টাকা নেই। তাছাড়া জমিতে এখনো ধান আছে। এত তাড়াতাড়ি ভুট্টার বীজ নিয়ে কী করব? তবুও তিনি রাজি হননি।’

তিনি বলেন, ‘পরে এক প্যাকেট ভুট্টার বীজের দাম কত জানতে চাইলে তিনি ৬০০ টাকা করে বলেন। তখন আবারও বলি, এত টাকা আমার কাছে নেই। এরপর তিনি বলেন, তাহলে সার দেওয়া যাবে না। পরে আমি সার না নিয়ে ফিরে আসি।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সার ডিলার মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যারা কৃষি অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন, তাদের কেউ আমার ঘরে সার নিতে আসেননি। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরপ্রধানকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলব।’