কৃষি খবর ডেস্ক: দিনাজপুরে আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মৌসুম শুরুর আগেই ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো ও মুলা বাজারে তুলে ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
সাধারণত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ে। তবে মৌসুমের শুরুতে বাজারে সবজির চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় আগাম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকেই জমি প্রস্তুত করে শুরু করেছেন চাষাবাদ।
দিনাজপুর সদর উপজেলার কর্ণাই গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম ৬০ শতক জমিতে কয়েক ধরনের আগাম সবজি চাষ করেছেন। অসময়ের বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি এড়াতে জমিতে নালা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সবজি বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন।
অন্যদিকে, ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক সহিদ মিয়া ৩২ শতক জমিতে আগাম ফুলকপি চাষ করেছেন। তাঁর হিসাবে, বাজারজাত করা পর্যন্ত খরচ হবে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। গত বছর একই জমিতে ফুলকপি বিক্রি করে এক লাখ ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন তিনি। এবারও ভালো লাভের প্রত্যাশা করছেন।
কৃষকদের মতে, আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করায় শ্রম ও খরচ কমানোর পাশাপাশি আগাম সবজি উৎপাদনে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় ২৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম সবজি চাষের লক্ষ্য ৭ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি। এ ছাড়া জেলায় ৩৬ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম সবজি চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। উৎপাদন বাড়াতে এবং রোগবালাই দমনে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




