জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশের কৃষি, শিল্প ও অর্থনীতি ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বন্যা, অনাবৃষ্টি ও লবণাক্ততার ক্ষতি মোকাবিলায় জলবায়ু সহনশীল অর্থনীতি গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘গ্রিন ডায়ালগ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, অতিরিক্ত গরমে কারখানার শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা কমছে। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বাড়ায় কৃষিজমি ও সুপেয় পানির ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও বন্যায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়ক ও যোগাযোগ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি, মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা ও জ্বালানি খাতের চাপের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন অর্থনীতির ওপর বাড়তি বোঝা তৈরি করতে পারে। বিশ্বব্যাংকের হালনাগাদ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় জলবায়ু ঝুঁকিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। 

কৃষি খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসে কৃষির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কৃষি এখনো অনেকাংশে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। তাই বন্যা, অনাবৃষ্টি ও লবণাক্ততার ঝুঁকি কমাতে সময়োপযোগী অভিযোজন কৌশল এবং আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর বিরূপ প্রভাব দেশটিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। 

আলোচনায় শিল্পোদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, জলবায়ু অর্থায়ন এবং টেকসই কৃষির প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর নীতিসহায়তা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড ইডকলকে সম্মাননা দেওয়া হয়। হ্যামস গার্মেন্টসের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক লিড প্লাটিনাম সনদে ১১০-এর মধ্যে ১০৮ স্কোর অর্জনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। অন্যদিকে সৌর হোম সিস্টেমের মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের বিপরীতে ২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কার্বন রাজস্ব দেশে আনার স্বীকৃতি পায় ইডকল।