কৃষি খবর ডেস্ক: স্বাধীনতার পর গত ৫২ বছরে দেশে আবাদি জমির পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। তবে জমি কমার বিপরীতে কৃষি উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ১৯৭১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৮ গুণ, গমের ১৭ দশমিক ২৭ গুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে ২ হাজার ২৬৬ দশমিক ৬৭ গুণ।
রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তিন দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপনীতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। কর্মশালায় কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বক্তারা জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি নগরায়ণ, শিল্পায়ন, বসতবাড়ি ও সড়ক নির্মাণের কারণে প্রতিবছর কৃষিজমি কমছে। এ অবস্থায় কম জমিতে উৎপাদন বাড়ানো এবং একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ উত্তম কৃষিচর্চার আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে পাঁচটি ফল ও ১০টি সবজি চাষে তিন লাখ হেক্টর জমিকে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। বিএআরসির ওয়েবসাইটেও বাংলাদেশ GAP এর সার্টিফিকেশন ব্যবস্থার তথ্য রয়েছে।
কর্মশালায় শস্যবীমার খসড়া সরকারের কাছে জমা দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখী চাষ বাড়াতে খুলনা ও বরিশালে তেল উৎপাদন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও উঠে আসে।
অন্যদিকে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ৫১ দশমিক ১১ লাখ টনে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়। তবে দেশীয় মিঠাপানির মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
প্রাণিসম্পদ খাত নিয়েও কর্মশালায় বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়। দুধের বর্তমান প্রাপ্যতা দৈনিক চাহিদার তুলনায় কম থাকলেও মাংসের প্রাপ্যতা চাহিদার চেয়ে বেশি বলে জানানো হয়েছে।
মূল বার্তা হলো কৃষিজমি কমলেও প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা ও উত্তম কৃষিচর্চার মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন ধরে রাখার পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই কৃষির দিকে যেতে হবে।





