কৃষি খবর ডেস্ক: কৃষকদের জন্য ডিজিটাল ঋণসেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস কাজে লাগিয়ে কৃষক ও কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আইএফপিআরআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে ব্যাংকটি।

দুই বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক এ উদ্যোগে ৫০ হাজার কৃষক ও দেড় হাজার কৃষি উপকরণ বিক্রেতাকে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্যোগটির আওতায় ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এতে সহায়তা দিচ্ছে গেটস ফাউন্ডেশন।

যেভাবে মিলবে ঋণ

অনেক কৃষকের নিয়মিত আয় ও ব্যবসায়িক লেনদেনের নির্ভরযোগ্য নথি না থাকায় ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে তাঁদের অনেকেই অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন।

এ সমস্যা কমাতে কৃষক ও কৃষি উপকরণ বিক্রেতাদের ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁদের আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হবে।

এ জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আস্থা’, ‘সাফল্য’ ও ‘জীবিকা’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং এজেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ডিজিটাল লেনদেনের ইতিহাস থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঋণ পাওয়া যাবে না। ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ করতে হবে।

কার্যকারিতা যাচাই করবে গবেষণা

এ উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে আইএফপিআরআই। গবেষণায় দেখা হবে, ডিজিটাল আর্থিক সেবা কৃষকদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে কতটা কার্যকর। পাশাপাশি বৃহত্তর পরিসরে দেশজুড়ে এ উদ্যোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও যাচাই করা হবে।

ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি অক্টোবর মাসে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে এ উদ্যোগের। এটি চলবে ২০২৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।

উদ্যোগটি সফল হলে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকদের বিদ্যমান বাধা কমতে পারে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন ও কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য অর্থায়নের নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।