কৃষি খবর ডেস্ক: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। ‘আমাদের বাঁচতে হলে গাছ লাগাতে হবে’—বলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাইকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সম্প্রতি ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে বাকৃবিতে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ কমিটির উদ্যোগে ডেইরি ফার্ম ও বেগম খালেদা জিয়া হল প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় ১০০টি তালের বীজ ও ১০০টি নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়।
উপাচার্য বলেন, সরকারের বৃক্ষরোপণ উদ্যোগকে সফল করতে বাকৃবিতে গত জুন থেকে বিভিন্ন অনুষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। অন্যান্য অনুষদ ও প্রতিষ্ঠানকেও এ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ভালো ফলজ গাছ নেই। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগিয়ে ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ করে তুলতে হবে। পুরোনো ও নষ্ট হয়ে যাওয়া গাছ অপসারণ করে সেখানে নতুন গাছ লাগানো হবে। বিভিন্ন অনুষদ, আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের খালি জায়গায় পর্যায়ক্রমে বৃক্ষরোপণ করা হবে।
বৃক্ষরোপণ কমিটির সভাপতি ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম। এ ছাড়া প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, এনিমেল হাসবেন্ড্রি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রকিবুল ইসলাম খান, বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, বাংলাদেশ সরকার পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাকৃবি ক্যাম্পাসে পাঁচ বছরে ২০ হাজার ফলজ, বনজ, ঔষধি ও ফুলের গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও বাড়বে।
বৃক্ষরোপণ কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. হারুন অর রশীদ বলেন, ২০ হাজার বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের সূচনা হিসেবে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার ফার্মে নিজস্ব উদ্যোগে ৫০০ তালের বীজ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রোপণ করা হবে। তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নিমসহ অন্যান্য গাছের চারাও রোপণ করা হবে।



