কৃষি খরর ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির চাপে থাকা কৃষক ও ট্রাকচালকদের স্বস্তি দিতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ৭ অক্টোবর সই করা নির্বাহী আদেশে করমুক্ত ‘ডাইড ডিজেল’ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বছরের শেষ পর্যন্ত প্রতি গ্যালনে ২৪ সেন্টের ফেডারেল ডিজেল কর সাময়িক স্থগিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এএএ-র তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রতি গ্যালন ৬.৩০ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় ৭০ শতাংশের বেশি।
তবে নতুন এ উদ্যোগে কৃষকদের ব্যয় কতটা কমবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কৃষি ও পরিবহন খাতের প্রতিনিধিদের মতে, অধিকাংশ কৃষক আগে থেকেই নিজেদের যন্ত্রে করমুক্ত ডিজেল ব্যবহারের সুযোগ পান। অন্যদিকে, অনেক ডিজেল পাম্প বড় ট্রাকের জ্বালানি সরবরাহের উপযোগী নয়।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সরবরাহ না বাড়িয়ে করমুক্ত ডিজেলের ব্যবহার বাড়ালে সীমিত জ্বালানি নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও বাড়তে পারে। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং ডিজেলের ঘাটতি মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
ওনার-অপারেটর ইন্ডিপেনডেন্ট ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী টড স্পেন্সারও ক্ষুদ্র ও স্বতন্ত্র ট্রাকচালকদের জন্য সীমিত সুবিধার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এসব চালককে সাধারণত আগাম জ্বালানির মূল্য পরিশোধ করতে হয়। ফলে করের ক্ষেত্রে সাময়িক সুবিধা পেলেও তাৎক্ষণিক ব্যয়ের চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন।
স্পেন্সারের হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালনে এক ডলার বাড়লে একজন স্বতন্ত্র ট্রাকচালকের সাপ্তাহিক ব্যয় প্রায় ৪০০ ডলার বেড়ে যেতে পারে।
আমেরিকান ট্রাকিং অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেসি ও জনসংযোগবিষয়ক প্রধান হেনরি হ্যানসকম বলেন, এই আদেশ আপাতত করসংক্রান্ত জরিমানা থেকে সাময়িক অব্যাহতি এবং কর পরিশোধ পিছিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে; এটি সরাসরি কর মওকুফ নয়। বাস্তবে এর প্রভাব মূল্যায়নের আগে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবা (আইআরএস) থেকে আসন্ন নির্দেশনা পর্যালোচনা করবে সংগঠনটি।
কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গ্রেগ ইবেনডাল আরও মৌলিক সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর মতে, বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ ঘাটতি রয়েছে। জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অন্তত এক বছর লাগতে পারে। ফলে শুধু করনীতিতে পরিবর্তন এনে এই সংকটের দ্রুত সমাধান করা কঠিন।
বিশ্ববাজারেও উদ্বেগ:
ডিজেলের দাম বাড়লে কৃষি উৎপাদন, সার পরিবহন ও খাদ্য সরবরাহের ব্যয়ও বাড়ে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারত ও লাতিন আমেরিকার কৃষকরাও বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ সংকট না কাটলে ট্রাম্পের করছাড়ের উদ্যোগে সাময়িক স্বস্তি মিললেও জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ দ্রুত কমার সম্ভাবনা সীমিত।




