কৃষি খবর ডেস্ক: পটুয়াখালীর দশমিনায় মাত্র ১৪ হাজার টাকা উৎপাদন খরচে লাউ, করলা ও শসা চাষ করে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা পাবেল হোসেন। ৩৩ শতাংশ জমিতে মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে মৌসুম শেষে আরও ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার সবজি বিক্রির আশা করছেন তিনি।

দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা পাবেল। বাঁশের খুঁটি ও তারের মাচায় লাউ-করলা চাষ করে নিজের আয়ের পাশাপাশি এলাকার অন্য তরুণদেরও কৃষিকাজে আগ্রহী করে তুলছেন তিনি।

পাবেলের ক্ষেতজুড়ে রয়েছে মার্শাল সুপার জাতের লাউ এবং টিয়া সুপার ও পার্লি প্লাস জাতের করলা। পাশাপাশি চাষ করেছেন শসা। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত পরিচর্যায় এবার ভালো ফলন পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে প্রতিদিন তিন থেকে চার ককসেট সবজি বিক্রির জন্য পাঠাচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরাও তাঁর ক্ষেত থেকে সবজি কিনছেন।

পাবেল হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ হাজার টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি করলা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শসা ৩০ থেকে ৪৫ টাকা এবং আকারভেদে প্রতিটি লাউ ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষের সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, এতে গাছের পরিচর্যা ও ফল সংগ্রহ সহজ হয়। একবার মাচা তৈরি করলে সেটি ব্যবহার করে পরবর্তী সময়ে তিন থেকে চার দফা লাউ, করলা ও অন্যান্য সবজি চাষ করা যায়। এতে উৎপাদন খরচও সাশ্রয় হয়।

পাবেলের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়েছেন একই গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আবু ইউসুফ। তিনি জানান, পাবেলকে দেখে তিনিও সবজি চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এখন নিজের বাগানে মৌসুমি সবজি উৎপাদন করে পরিবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারেও বিক্রি করছেন।

দশমিনা উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় ভার্মিকম্পোস্ট সার ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করে পাবেল তাঁর সবজি চাষ করেছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ জানান, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাচা পদ্ধতিতে লাউ, করলা ও শসা চাষ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণের পাশাপাশি উন্নত জাতের সবজি চাষ, পরিচর্যা এবং মাচা তৈরির বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।