জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ে তাদের কার্যক্রমে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছে। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য হ্রাস, সরাসরি ব্যাংক এপিআই (API) লেনদেন এবং স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংস্থাটি কার্যক্রম পরিচালনায় শৃঙ্খলা ও বিপুল ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত করেছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার আর্মি গলফ ক্লাবের গলফ গার্ডেনে আয়োজিত 'ট্রেড উইথ টিসিবি' শীর্ষক এক বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।অনুষ্ঠানটিতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষক ও বিআইডিএস গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক ড. বদরুন নেসা আহমেদ।
মূল প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, দেশব্যাপী স্বল্প আয়ের এক কোটি পরিবারের মাঝে প্রতি মাসে ভর্তুকিমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে টিসিবি। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশজুড়ে ৭৯ লাখ ৯০ হাজার প্রকৃত সুবিধাভোগীকে ডিজিটাল ডেটাবেজে ভেরিফাই ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রায় ৭৩ লাখ ৭ হাজার স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড সক্রিয় করা হয়েছে। ডিজিটাল যাচাইকরণ (ই-কেওয়াইসি ও জাতীয় পরিচয়পত্র মেলানো) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৫৯ লাখ ভুয়া ও অযোগ্য আবেদন বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে সরকারি পণ্যের অপচয় ও কালোবাজারি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়েছে।
প্রেজেন্টেশনে টিসিবির আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়। আধুনিক ডিজিটাল ট্রেজারি এবং সরাসরি গুদাম থেকে ডিলারের কাছে পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংস্থাটি প্রতি বছর প্রায় ৮০ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় করছে। এর মধ্যে ডিলারদের কাছ থেকে ব্যাংক এপিআই-এর মাধ্যমে সরাসরি টাকা জমা নেওয়ায় ৬০ কোটি টাকা এবং নিজস্ব ওয়্যারহাউজ ব্যবস্থাপনায় ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৮ হাজার কোটি টাকার বৃহৎ ক্রয় পরিকল্পনায় ক্রয়মূল্য হ্রাস এবং মোট বিক্রয় রাজস্ব ৮৩ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সুবিধাভোগী প্রতি মাথাপিছু ভর্তুকির হার ১৭ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি টিসিবির পণ্য তালিকায় সাবান, ডিটারজেন্ট, লবণ, চা, আটা ও মসলার মতো লাভজনক নিত্যপণ্য অন্তর্ভুক্ত করে খোলা বাজারে বিক্রির মাধ্যমে ভর্তুকি সমন্বয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
গ্রাহকসেবা সহজীকরণে টিসিবি ‘উপকারী’ (Upokari) স্মার্ট অ্যাপ চালু করেছে, যার মাধ্যমে সুবিধাভোগীরা ঘরে বসেই নিকটস্থ বিক্রয় কেন্দ্র ও পণ্য প্রাপ্তির নোটিফিকেশন পাচ্ছেন এবং এনক্রিপ্ট করা কিউআর কোড স্ক্যান করে অনলাইন বা ক্যাশে পণ্য সংগ্রহ করতে পারছেন। কার্ড হারিয়ে গেলেও এই অ্যাপের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাওয়া নিশ্চিত করা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সেবা ও অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য হটলাইন (০৯৬৩৮ ১১১ ৮৮৮) এবং ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ সেবা চালু রয়েছে।
দরপত্র ও সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় শতভাগ ই-জিপি (e-GP) নিশ্চিতকরণ, প্রকাশ্যে দরপত্র উন্মুক্তকরণ এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে জামানত ও বিল দ্রুত পরিশোধের মাধ্যমে সরবরাহকারীদের জন্য ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সহজ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ভবিষ্যতে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে সমন্বিত অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক বাজারদর মনিটরিং এবং নিজস্ব ওয়্যারহাউজ সক্ষমতা বাড়িয়ে টিসিবিকে সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল ও ভর্তুকিমুক্ত সংস্থায় রূপান্তরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।






