জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া: বগুড়া সদর উপজেলায় বিএডিসির দুটি গুদামে মজুদ সারের হিসাবে গরমিল পাওয়ায় মেসার্স এস আর এগ্রো ও সোনালী ট্রেডার্স নামের দুই সার ডিলারকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গতকাল রবিবার বিকেলে সদরের সাবগ্রাম ও রাতে কলোনী এলাকায় ডিলারের গুদামে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। পৃথক অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াজেদ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ চন্দ্র সরকার, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান ও পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান সুত্রে জানা যায়, মেসার্স এস আর এগ্রো ও সোনালী ট্রেডার্স বগুড়া কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) থেকে ৩৭৬ বস্তা করে ডিএপি সার উত্তোলন করলেও গুদামে সারের মজুতের সঙ্গে হিসাবের গরমিল পাওয়া যায়। অভিযানে দুই ডিলার মজুদের গরমিলের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পৃথক অভিযানে উভয় ডিলার কে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। একই সঙ্গে দুই কর্মদিবসের মধ্যে ৩৭৬ বস্তা করে ডিএপি সার দেখিয়ে মজুদের হিসাব ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিকেলে সাবগ্রাম এলাকায় মেসার্স এস আর এগ্রোতে অভিযান শেষে বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল ওয়াজেদ বলেন, ডিলার নিশ্চিত না তার মজুদ ঠিক আছে কি না, এলোমেলো অবস্থায় রয়েছে। আগামী ২ কর্মদিবসের মধ্যে মজুদ ঠিক করবেন। যেহেতু মজুদ ঠিক নেই তাই ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরদিকে রাতে কলোনিতে সোনালী ট্রেডার্সে অভিযান শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদ জানান, আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি, ৩৭৬ বস্তা সার উত্তোলন করলেও ১৭৬ বস্তার হদিস মিলছে না, এ কারনে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে তার ডিলার শীপ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বগুড়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান বলেন, আমাদের নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগটি সার বীজ মনিটরিং কমিটিতে ব্যবস্থা নিতে আলোচনা করা হবে এবং জেলা কমিটির কাছে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হবে।