কৃষি খবর ডেস্ক: অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার নওগাঁয় পাটের ফলন হয়েছে ভালো। দীর্ঘ অপেক্ষা ও পানিতে জাগ দেওয়ার পর গত এক মাস ধরে জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জমে উঠেছে সোনালি আঁশের বেচাকেনা।

পাটের মান ভালো হওয়ায় প্রায় এক যুগ পর মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা। গত বছরের তুলনায় এবার শুরুতেই প্রতি মণ পাটের দাম বেড়েছে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা।

নওগাঁর বড় পাটের হাট হিসেবে পরিচিত মান্দার সতীহাটে ভোর থেকেই দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট নিয়ে হাজির হচ্ছেন কৃষকেরা। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকা দরে।

চাষিরা বলছেন, এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় সেচ খরচ কমেছে। পাশাপাশি খাল-বিল ও জলাশয়ে পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও ধোয়ার কাজও তুলনামূলক সহজ হয়েছে। এতে পাটের আঁশের রং ও মান ভালো হয়েছে।

আত্রাইয়ের কৃষক ওমর ফারুক জানান, ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করে এবার ভালো ফলন পেয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতি মণে প্রায় ৭০০ টাকা বেশি দাম পাচ্ছেন তিনি।

আরেক কৃষক আহসান হাবীব জানান, বিঘাপ্রতি প্রায় ১৮ হাজার টাকা খরচ করে তিনি ১২ মণ করে পাট পেয়েছেন। এবার ৩ হাজার ৯৫০ টাকা মণ দরে ২৭ মণ পাট বিক্রি করেছেন, যা গত এক যুগের মধ্যে তার পাওয়া সর্বোচ্চ দাম।

পাটের ভালো মানের কারণে বাজারে চাহিদাও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সতীহাটের ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের রং ও মান ভালো। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় দামও বাড়ছে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৮ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, পাট শুধু আঁশ হিসেবে নয়, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতে কৃষক পর্যায়ে এর চাহিদা ও দাম আরও বাড়তে পারে।