জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: খাদ্যের মান পরীক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলায় পরীক্ষাগার স্থাপনে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কারিগরি সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের খাদ্যপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিবিধানের যথাযথ প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাসি জুনকোর নেতৃত্বে ছয় সদস্যসের একটি প্রতিনিধিদল এ সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় প্রতিনিধি দলের টীম লিডার কোয়ামা আতসোসি খাদ্য নিরাপত্তা প্রশাসন শক্তিশালীকরণে জাইকার সুপারিশমালা উপস্থাপন করেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, খাদ্যবাহিত রোগসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা প্রশাসনকে কার্যকর ও শক্তিশালী করা, কারিগরি দক্ষতা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশব্যাপী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং নকল ও ভেজাল খাদ্যপণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন রোধে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ, মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার এবং খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান প্রতিনিধি তাকাহাসি জুনকোর বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সুসংহত করতে বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা সুবিন্যস্ত করার সুপারিশ করেন। তিনি খাদ্য নিরাপত্তার জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তোলার পাশাপাশি সকল খাদ্য ব্যবসায়ীদের জন্য একক লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও সুসংহত করতে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে আন্তর্জাতিক মানের তিনটি ল্যাব স্থাপন করছে জাইকা।

তিনি আরও বলেন, কার্যকর খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিশেষায়িত কারিগরি দক্ষতা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী  স্বীকৃত পরীক্ষাগার এবং দেশব্যাপী খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ ও পরিদর্শন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। 

এসময় জাইকা বাংলাদেশ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।