কৃষি খবর ডেস্ক: জরুরি সার আমদানিতে বাংলাদেশকে ৩০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। দেশীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এ অর্থ দিয়ে ৬ লাখ টন সার আমদানি করা হবে। সারের সরবরাহ নিশ্চিত করে বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য সার সহজলভ্য রাখা এবং কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন করাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।

এ বিষয়ে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের একটি চুক্তি সই হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে ইআরডির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। বিশ্বব্যাংকের পক্ষে সই করেন সংস্থাটির বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক পরিচালক জ্যঁ পেম।

‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি’ প্রকল্পের আওতায় এ অর্থ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য, রোপণ মৌসুমে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য উপযুক্ত সারের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করা, যাতে জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বজায় থাকে। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত।

জানা গেছে, আমদানি করা মোট সারের মধ্যে ৫ লাখ টন হবে ইউরিয়া। এ সার চলতি বছরের আমন এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমে ব্যবহার করা হবে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ আসে আমন ও বোরো মৌসুম থেকে। ফলে এ দুই মৌসুমে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগী। সংস্থাটি বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ঋণ সহায়তা দিয়ে আসছে।