কৃষি খবর ডেস্ক: অনুকূল আবহাওয়া আর বিগত মৌসুমের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পাওয়ার সুবাদে ভোলার উপকূলীয় এবং বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলগুলোতে এখন চলছে আগাম তরমুজ ও অন্যান্য রবি শস্যের বীজতলা তৈরির ব্যস্ততা। সাধারণত নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে তরমুজ চাষ শুরু হলেও, বাজারে সবার আগে ফসল তুলে অধিক মুনাফা নিশ্চিত করতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস থেকেই মাঠে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ভোলার সদর উপজেলা, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন ও চরফ্যাশনের মাঝের চর, মদনপুর, বৈরাগী চর, ভোলারচর এবং চর নিজামসহ বিভিন্ন চরে কৃষকরা দিনরাত পরিশ্রম করে আধুনিক প্রযুক্তি ও মালচিং পেপার ব্যবহার করে উঁচু বেড ও চারা তৈরি করছেন। মালচিং পেপার ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা যেমন বজায় থাকছে, তেমনি রোগবালাই ও আগাছার উপদ্রবও কমে যাচ্ছে।

অধিক লাভের আশায় ঐতিহ্যবাহী জাতের পাশাপাশি চাষিরা এবার বিভিন্ন হাইব্রিড ও আগাম জাতের তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। যার মধ্যে কৃষকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বিগ ফ্যামিলি, থাই সুপার, ড্রাগন সুপার, ড্রাগন কিং এবং এগ্রিকোলার ব্ল্যাক মার্শাল।

কৃষকরা জানান, তরমুজের পাশাপাশি চরের পতিত জমিতে আগাম জাতের মরিচ, মিষ্টি আলু, ডাল এবং বিভিন্ন বিষমুক্ত শীতকালীন সবজির বীজতলা ও জমি প্রস্তুতের কাজও সমানতালে চলছে। ​প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবারো ভালো লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

ভোলার বৈরাগী চরের কৃষক হাজী মান্নান বলেন, ‍“আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমরা এবারো আগাম ফসল ঘরে তুলতে পারব ইনশাআল্লাহ।” 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভোলার উপ-পরিচালক খায়রুল ইসলাম মল্লিক জানান, চলতি বছর আবহাওয়া কৃষির জন্য বেশ অনুকূলে রয়েছে। অসময়ে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে চরের চাষিরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ভালো দাম পাবেন এবং আর্থিকভাবে দারুণ লাভবান হবেন।