কৃষি খবর ডেস্ক: দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় আমন ও স্বল্পমেয়াদি আউশ ধান কাটার পর ফাঁকা জমিতে শুরু হয়েছে আগাম জাতের আলু চাষ। মৌসুমের একদম শুরুতে বাজারে নতুন আলুর বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় ঝুঁকি নিয়েই মাঠে নেমেছেন প্রান্তিক কৃষকেরা। গত মৌসুমের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ভোর থেকেই চলছে জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ ও বীজ রোপণের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে এখন পুরোদমে চলছে চারা রোপণ ও কৃষিশ্রমিকদের কর্মচাঞ্চল্য।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ী উপজেলায় সর্বমোট এক হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু আবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৭৫০ হেক্টর। এই আগাম আবাদ থেকে মোট ১৬ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। মাঠে মাঠে কৃষকরা এখন স্টারিক ও রোমানাসহ উচ্চফলনশীল বিভিন্ন আগাম জাতের আলু রোপণ করছেন।
মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগাম আলু উৎপাদনে শুরুতেই বড় অঙ্কের আর্থিক বিনিয়োগ করতে হয়। জমি ইজারা নেওয়া, ভালো মানের বীজ সংগ্রহ, সার, কীটনাশক ও জমি চাষের খরচ মিলিয়ে উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। শিবনগর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জব্বার জানান, নিজের আবাদি জমি না থাকায় তিনি দুই বিঘা জমি ৪০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছেন। জমির ভাড়ার সঙ্গে বীজ, সার ও শ্রমিকের পেছনে তাঁকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তবে ভালো ফলন পেলে বিনিয়োগ উঠে এসে ভালো মুনাফা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
একই ইউনিয়নের কয়রাকোল গ্রামের কৃষক সুকদেব চন্দ্র রায় বলেন, গত মৌসুমে আগাম আলু তুলে মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেছিলেন তিনি। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতা থেকে এবার ৪০ শতাংশ জমিতে আগাম আলু চাষ করেছেন।
তবে সবার অভিজ্ঞতা সুখকর নয়। খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের আম্রবাড়ি গ্রামের কৃষক সাগর চন্দ্র জানান, গত দুই বছরে আলু চাষ করে তিনি লোকসানের মুখে পড়েছেন। এরপরও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় এবার আবারও আগাম আলু চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়া গেলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, সারাদেশের মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলায় আগাম আলু চাষ ও উত্তোলন শুরু হয়। মৌসুমের শুরুতেই এখানকার আলু দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে যায়। এ কারণে কৃষকরা শুরুতে তুলনামূলক ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। কৃষকদের আগাম আলু চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগাম আলু চাষকে ঘিরে ইতোমধ্যে উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠে কৃষকের কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে। ফলন ভালো এবং বাজারদর অনুককূলে থাকলে আগাম আলু চাষ কৃষকদের গত মৌসুমের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
আলুর আবাদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রামীণ শ্রমবাজারেও ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। ফুলবাড়ীর বিভিন্ন মাঠে বর্তমানে পুরুষ শ্রমিকরা দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকরা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন।





