কৃষি খবর ডেস্ক: খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে এক সময় পানির সংকটে অনেক জমিই পড়ে থাকত অনাবাদি। ডিজেলচালিত পাম্পে সেচ দিতে গিয়ে কৃষকদের গুনতে হতো বাড়তি খরচ। কোথাও আবার ছিল না বিদ্যুতের সংযোগ।
তবে সেই চিত্র ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে সৌরচালিত সেচ প্রযুক্তির ব্যবহারে। রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৌর পাম্পের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে ফসলের জমিতে দেওয়া হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ ছাড়াই সেচ সুবিধা পাচ্ছেন কৃষকরা। ফলে এক সময়ের অনাবাদি জমিতেও এখন ধান, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মরিচের মতো বিভিন্ন ফসল চাষ হচ্ছে।
কৃষক আনারুল জানান, আগে দূরের পুকুর থেকে ডিজেলচালিত পাম্প ও দীর্ঘ পাইপের মাধ্যমে পানি আনতে হতো। এতে সেচের খরচ এতটাই বেড়ে যেত যে চাষাবাদ করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ত। সৌর পাম্প চালুর পর সেই ব্যয় অনেকটাই কমেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি সৌর সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ২০ জন কৃষকের ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা জমিতে পানি দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের একটি কমিটির মাধ্যমে যৌথভাবে ব্যবস্থাটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
বরেন্দ্র অঞ্চলে এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকায় গভীর নলকূপের সেচ সক্ষমতা কমে গেছে। সেই সংকট মোকাবিলায় সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থাকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
গত দুই বছরে রাজশাহী বিভাগে ৩২টি সৌর সেচ পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী, বহনযোগ্য ও নির্দিষ্ট বাগানে ব্যবহারের জন্য প্রিসিশন সৌর সেচ ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, টেন্ডার অনুযায়ী প্রতিটি সৌর পাম্প স্থাপনে প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ছয়টি ৫৫০ ওয়াটের সোলার প্যানেল থেকে মোট প্রায় ৩ হাজার ২০০ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ২ অশ্বক্ষমতার একটি পাম্প প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রায় ২০ থেকে ২৫ বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ করতে পারে।
ভবিষ্যতে ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের সঙ্গেও সৌর প্যানেল যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন দুর্গম এলাকায় এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে কার্যকর। আর কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষি উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান সেচ হওয়ায় জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে সৌর সেচের ব্যবহার আরও বাড়ানো গেলে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর পাশাপাশি চাষাবাদও সম্প্রসারিত হতে পারে।






