জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া: বগুড়ায় পটল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। ভালো ফলন ও দীর্ঘ সময় ধরে উৎপাদন পাওয়ায় জেলাটিতে দিন দিন বাড়ছে পটলের আবাদ। বগুড়ার উৎপাদিত পটলের চাহিদাও রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে।

দীর্ঘমেয়াদি এই সবজি প্রায় নয় মাস পর্যন্ত ফলন দেয়। বাঁশের তৈরি মাচায় পটল চাষ করায় জমিতে পরিচর্যার কাজও তুলনামূলক সহজ হয়। গাছে ফল আসার পর প্রায় প্রতিদিন পটল সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করতে পারেন কৃষকেরা।

মৌসুমের শুরুতে পটলের দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে।

বগুড়ার সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, ধুনট, শিবগঞ্জ ও শাজাহানপুর এলাকায় পটলের উৎপাদন তুলনামূলক বেশি। জেলার গ্রীষ্মকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমি। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এসব জমি থেকে প্রায় ২ লাখ টন সবজি উৎপাদন হবে।

মাঝে বৃষ্টির কারণে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এবার গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

এখন চলছে পটলের শেষ মৌসুম। ফলে জমি থেকে যে পটল পাওয়া যাচ্ছে, সেটিও কৃষকদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করছে।

বগুড়া সদর উপজেলার শাখারিয়া গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী জানান, ১৫ শতক জমিতে পটল চাষ করতে তার প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

পটল তোলার পর একই জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের পরিকল্পনাও রয়েছে তার। এতে একই জমি থেকে একাধিক মৌসুমে আয় করার সুযোগ তৈরি হবে।