জেলা প্রতিনিধি, বগুড়া: একসময় বগুড়ার নন্দীগ্রামের কাঁচা মরিচের বেশ সুনাম ছিল। নানা কারণে সেই ঐতিহ্য কিছুটা হারিয়ে গেলেও এবার আবারও নতুন করে জেগে উঠেছে মরিচ চাষের সম্ভাবনা।
চলতি মৌসুমে নন্দীগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকদের পরিশ্রম এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে ক্ষেতজুড়ে দেখা দিয়েছে মরিচের ভালো ফলন। বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় খুশি চাষিরাও।
উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের বাদালাশন গ্রামের কৃষক জামিল হোসেন এবার নিজের তিন বিঘা জমিতে ‘বিজলী প্লাস’ জাতের মরিচ চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত, সার, চারা ও শ্রমিকসহ এখন পর্যন্ত তার প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
জামিল জানান, আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহে জমি প্রস্তুত করে নির্ধারিত মাত্রায় ইউরিয়া, টিএসপি, পটাশ, জিপসাম ও জৈবসার প্রয়োগ করেন। পরে সারিবদ্ধভাবে চারা রোপণ করেন এবং গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুঁটি দিয়ে গাছ বেঁধে দেন।
ইতোমধ্যে তার জমিতে পুরোদমে মরিচ তোলা শুরু হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মরিচ আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দাম ভালো থাকলে তিন বিঘা জমি থেকে কয়েক লাখ টাকার মরিচ বিক্রির আশা করছেন তিনি।
জামিলের মতো ধুন্দার, রিধইল, কাথমসহ বিভিন্ন গ্রামের অনেক কৃষক এবার মরিচ চাষ করছেন। তাদের মতে, ধানের তুলনায় মরিচ চাষে তুলনামূলক কম পরিশ্রমে ভালো লাভের সুযোগ রয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজিউল হক জানান, কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ ও তৎপরতায় উপজেলায় আবারও মরিচ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। মরিচের ক্ষেতগুলোতে যেন রোগবালাই বা অন্য কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
কৃষকদের আগ্রহ ও ভালো ফলনের কারণে নন্দীগ্রামে আবারও ফিরে আসছে হারিয়ে যেতে বসা মরিচ চাষের সেই পুরোনো সম্ভাবনা।



