কৃষি খবর ডেস্ক: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা থেকে মানুষের জীবিকা বাঁশের ব্যবহার ও গুরুত্ব ছড়িয়ে আছে নানা ক্ষেত্রে। ঘরবাড়ি নির্মাণ, কারুশিল্প, আসবাব, প্যাকেজিং থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বস্ত্র তৈরিতেও দিন দিন বাড়ছে বাঁশের ব্যবহার।
এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকায় হাজার হাজার বছর ধরে নির্মাণ, কারুশিল্প, খাদ্য ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন কাজে বাঁশ ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বহু দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে এই উদ্ভিদ।
বাঁশের অন্যতম বড় সুবিধা হলো, এটি তুলনামূলকভাবে কম রাসায়নিক নির্ভরতায় বেড়ে উঠতে পারে। ফলে মাটিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর সুযোগ থাকে। বাঁশের শেকড় মাটির ভেতরে থেকে যাওয়ায় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখতেও এটি ভূমিকা রাখে। এতে বৃষ্টির পানিতে মাটির ক্ষয় কমাতে সহায়তা করতে পারে।
বাঁশ পরিবেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, সমপরিমাণ জমিতে বেড়ে ওঠা প্রচলিত গাছের তুলনায় বাঁশের ঝাড় কার্বন-ডাই-অক্সাইড শোষণ ও অক্সিজেন উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।
আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, বাঁশ কাটার পরও এর শেকড় মাটিতে থেকে যায়। সেখান থেকেই নতুন বাঁশ জন্মাতে পারে। ফলে প্রতিবার নতুন করে বীজ বপনের প্রয়োজন হয় না। পর্যাপ্ত মাটি, পানি ও সূর্যের আলো পেলে বাঁশের বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।
বাঁশের শেকড় মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং ভূমিক্ষয় কমাতেও সহায়তা করে। বিশেষ করে বৃষ্টিপ্রবণ বা ক্ষয়প্রবণ এলাকায় বাঁশের ঝাড় মাটিকে ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শুধু পরিবেশ নয়, বাঁশ গ্রামীণ অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষক ও কারুশিল্পীরা বাঁশ থেকে আয় করেন। বাঁশ দিয়ে তৈরি পণ্য স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
বর্তমানে বাঁশের ভিসকস ও লায়োসেল দিয়ে তৈরি কাপড়, তোয়ালে ও বিছানার চাদরও জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব পণ্য সাধারণত নরম ও আরামদায়ক হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে এর ব্যবহার বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাঁশভিত্তিক টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ওপর চাপও কমানো যেতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, ক্যারিলোহা ডটকম।





