কৃষি খবর ডেস্ক: জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের আওয়ালগাড়ী-উলিপুর মাঠে সেচ পানির অভাবে ৫০০ বিঘা জমির আমন ধান উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় আছেন কয়েকশ কৃষক। কৃষকদের অভিযোগ, ওই মাঠের ৩টি গভীর নলকূপ বন্ধ থাকার কারণে সেচের অভাবে জমির ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, ধানের জমিগুলো পানির অভাবে ফেটে গেছে। ধানের গোছাগুলো শুকিয়ে হলদে ভাব হয়েছে। মাঠে ৫০০ বিঘা জমির জন্য ২টি বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এবং ১টি ব্যাক্তি মালিকানা গভীর নলকূপ বন্ধ রয়েছে। ৩টি নলকূপেই নেই কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ।

কৃষকদের অভিযোগ, এবার আমন মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ধান রোপণের পর থেকেই সেচের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কৃষকরা গভীর নলকূপ মালিকদের সেচ চালু করার জন্য তাগাদা দিলেও নলকূপ মালিকরা জোরালো কোনো ভূমিকা পালন করেনি। এতে তাদের জমির ধান নষ্ট হওয়ার পথে।

কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের এই মাঠে ৫০০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। আমি এবার চার বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। সেচ দিতে না পারায় ধানের জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। ধানও শুকিয়ে যাচ্ছে। শেষ সময়ে এসে সেচের ব্যবস্থা না হলে আমার পুরো বিনিয়োগই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি পল্লীবিদ্যুৎকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম। বরেন্দ্র অফিসে গিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আবারও আজ অফিসে এসেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আজই জানতে পেরেছি। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবহিত করা হয়েছে। আমরা সরেজমিন মাঠ পরিদর্শন করব। আশা করছি দ্রুত সমস্যাটির সমাধান হবে।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আক্কেলপুর কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী মনসুর আলী সরদার বলেন, ঘটনাটি আমি দুই দিন আগে জেনেছি। বিষয়টি জানার পরই গভীর নলকূপগুলোতে বৈদ্যুতিক সংযোগ পুনরায় স্থাপনের জন্য পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে অনুরোধ করেছি।

জয়পুরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আক্কেলপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আব্দুর রহমান সরকার বলেন, ইরি মৌসুমের শেষের দিকে তারা একটি দায়সারা অভিযোগ দিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে তারা আর যোগাযোগ করেননি। আজ আবার অফিসে আসায় কৃষকদের সমস্যা মাথায় রেখে দ্রুত সমধানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।