কৃষি খবর ডেস্ক: দেশের মাছ ও পুকুরের সবশেষ শুমারি হয়েছিল ১৯৮৩ সালে। দীর্ঘদিন পর তথ্য হালনাগাদে ৩১ কোটি ৮২ লাখ টাকার প্রকল্প নিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। তবে প্রকল্পের ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকাই ব্যয় ধরা হয়েছে পরামর্শক খাতে। প্রচলিত জরিপকাজে বিপুল পরামর্শক ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদের জরিপ পদ্ধতির উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পে এমনটি দেখা গেছে। প্রকল্পের মূল কাজ মৎস্য জরিপ, এটি একটি প্রচলিত পদ্ধতি। অথচ প্রচলিত কাজ সম্পন্ন করতে ২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে। ‘দ্যা ডেভেলপমেন্ট মর্ডানাইজেশন অ্যান্ড আপগ্রেডিং অব দ্যা ফিশারিজ রিসোর্স সার্ভে সিস্টেম’ খাত দেখিয়ে একটি মাত্র পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের জন্য এ ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পটি এরই মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মৎস্য অধিদপ্তর।

২৩ কোটি টাকা পরামর্শক খাতে ব্যয় রাখা প্রসঙ্গে প্রকল্পের দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তা ও মৎস্য অধিদপ্তরের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মৎস্যচাষ) মো. আলমগীর কবীর বলেন, ‘পুকুর-খালসহ দেশে ৩০ লাখ স্পট আছে। সেই তুলনায় পরামর্শক ব্যয় কমই ধরা হয়েছে। এটাকে এক ধরনের মাছের শুমারি বলা যায়। ১৯৮৩ সালে শুমারি করেছি। আর করা হয়নি। সেজন্য জিআইএস পদ্ধতিতে ম্যাপিং করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘পরামর্শক টেন্ডার করে কাজ বাস্তবায়ন হবে। মাছের ৩০ লাখ স্পটের তথ্য আছে, তা সংগ্রহ করা হবে। মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির তথ্য সঠিক করতেই এ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে মাছ, জলাশয়, মৎস্যজীবীর তথ্যও উঠে আসবে।

প্রকল্পে বাড়ি ভাড়া ও ভাতা খাতে ২৪ লাখ ৩০ হাজার, উৎসব ভাতায় ৮ লাখ ১০ হাজার, আউটসোর্সিং কর্মকর্তাদের বেতন ১৯ লাখ ৭৬ হাজার এবং একটি ভাড়া করা জিপে ৬৩ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

ডকুমেন্টেশন, ডিভাইস ও স্পিডবোট, ট্রলার ভাড়া, ব্যবস্থাপনা ব্যয় (টিওআর ও টেন্ডার ডকুমেন্টস প্রস্তুত, ইন্সপেকশন, মনিটরিং ও সুপারভিশন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক সহায়তা এবং অন্য খাতে ব্যয় হবে ১৪ লাখ টাকা। অভ্যন্তরীণ ভ্রমণ ব্যয় খাতে ২০ লাখ, সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় (কেন্দ্রীয়, কর্মশালা, বিষয়ভিত্তিক কর্মশালা ও ডাটা ভ্যালিডেশন প্রণয়নে কাজে ৩০ লাখ, জনপ্রতিনিধি, মাছচাষি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির সমন্বয়ে অবহিতকরণ কাজে দুই কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘আমাদের ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টে অনেক এক্সপার্ট আছে। যথেষ্ট টেকনিক্যাল এক্সপার্টাইজও আছে। কাজেই এত বেশি পরামর্শক ব্যয় কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ৩১ কোটি টাকার প্রকল্পে ২৩ কোটি টাকার পরামর্শক ব্যয় মানে অনেক বেশি।’

এত পরামর্শক ব্যয়ের যৌক্তিকতা ভেবে দেখা উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পরামর্শক ব্যয়ই অর্ধেক হয়ে গেলে আসল কাজ কী হবে এটা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তাহলে এত বড় ফিশারিজ বিভাগ রেখে লাভ কী। এত টাকা বেতনের চাকরি করছেন ফিশারিজ ডিপার্টমেন্টের লোকেরা, তাহলে ওনাদের কাজ কী। পরামর্শক ব্যয় যৌক্তিক করা উচিত।’