কৃষি খবর ডেস্ক: চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ভোরের আলো ফোটার আগেই জমে ওঠে মাছের হাট। সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে যায় লাখ লাখ টাকার বেচাকেনা। উপজেলার প্রাণকেন্দ্র চন্দনাইশ পৌরসভা ও দোহাজারী পৌরসভা এবং হাশিমপুর ইউনিয়নের মাছের আড়তে প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে এই ব্যস্ততা শুরু হয়।

সরেজমিনে গত কয়েকদিন ভোরে গিয়ে দেখা যায়, রাত ৩টা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাছ আসা শুরু হয়। ফজরের আজানের পর পরই পাইকার ও খুচরা বিক্রেতাদের হাঁকডাকে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো আড়ত। সকাল ৭টার পর ঘাটে আর মাছ থাকে না বললেই চলে।

আড়তদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, চন্দনাইশ, পটিয়া, সাতকানিয়া, চকরিয়া, বাঁশখালী ছাড়াও সুদূর সাতক্ষীরা, খুলনা ও কক্সবাজারের ঘের থেকে প্রতিদিন ট্রাক ভরে মাছ আসে। রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, চিংড়ি, কোরালসহ অন্তত ২০ প্রজাতির মাছে ভরে যায় আড়ত।

চন্দনাইশ পৌরসভা বাজারের ১ নং গদির হযরত শাহ্ আমিন উল্লাহ ফিস মার্চেন্ট কমিশন এজেন্ট সাপ্লাইয়ার্স এই বাজারের সবচেয়ে বড় আড়ত।

প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমাদের ব্যবসা ভোরের ব্যবসা। রাত ৩টা থেকে মাছ আসা শুরু হয়। ফজরের নামাজের পর থেকেই বেচাকেনা তুঙ্গে থাকে। শুধু আমাদের দুটি আড়তেই প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। পুরো বাজারে এই অংক ৩০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। সকাল ৭টার পর আর মাছ থাকে না।"

পাশাপাশি দোহাজারী পৌরসভা ও হাশিমপুর ইউনিয়নেও আরও মাছের আড়ত রয়েছে।

এই ভোরের বাজারকে কেন্দ্র করে শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। ভোর রাতে মাছ কিনতে আসা পাইকাররা এসব মাছ নিয়ে যান চট্টগ্রাম শহর, পটিয়া, সাতকানিয়া, বান্দরবান ও লোহাগাড়াসহ বিভিন্ন উপজেলার খুচরা বাজারে।

এক পাইকার বলেন, "ভোরে মাছ না কিনলে ভালো ও তাজা মাছ পাওয়া যায় না। তাই প্রতিদিন ভোর ৫টার মধ্যেই আড়তে চলে আসি।"

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারিভাবে আধুনিক শেড, পানি নিষ্কাশন ও হিমাগারের ব্যবস্থা করা হলে এই বাজার থেকে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় সম্ভব এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় মাছের পাইকারি বাজার হিসেবে গড়ে উঠবে চন্দনাইশ পৌরসভা ও দোহাজারী পৌরসভা বাজার।