কৃষি খবর ডেস্ক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল পৌরসভার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাটের ৩৩ লাখ টাকার বেশি বকেয়া রাজস্ব আদায়ে প্রশাসনিক উদাসীনতা ও গোপন আঁতাতের অভিযোগ উঠেছে। তৎকালীন জেলা প্রশাসকের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর ইজারাদারদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৪৩০ বঙ্গাব্দে পৌরসভার রেলওয়ে স্টেশন ছাগলের হাটটি ৪৭ লাখ ৮০ হাজার টাকায় ইজারা নেন রাজশাহীর বোয়ালিয়া এলাকার আলহাজ আব্দুস সাজ্জাদ। শর্ত অনুযায়ী ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের নিয়ম থাকলেও, তিনি সাত দফায় মাত্র ২৫ লাখ টাকা জমা দেন। বকেয়া ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ভ্যাট বাবদ অতিরিক্ত ৬ লাখ টাকাসহ মোট ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে পুরো বছর হাটের কার্যক্রম চালিয়ে যান।

অন্যদিকে, ১৪২৮ বঙ্গাব্দে নাচোল পৌরসভার একমাত্র গরুর হাটটি ইজারা নেন সুখানদিঘী গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম টিটু। তাঁর বকেয়া ৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া অতিরিক্ত বকেয়াসহ বর্তমানে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা।

দুটি হাট মিলিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা বকেয়া থাকায় ২০২৪ সালে উভয় ইজারাদারের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা করার নির্দেশ দেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুস সামাদ। নির্দেশনার পর পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আহসান হাবীব মামলার খরচ বাবদ পৌরসভার কোষাগার থেকে ২৫ হাজার টাকা উত্তোলন করলেও আজ পর্যন্ত কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ মাসুদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সরকারি অর্থ তছনছ করতে কর্মকর্তা ও ইজারাদারদের এক ধরনের সিন্ডিকেট কাজ করছে। ডিসির স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও মামলা না করা গুরুতর অপরাধ। এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা উচিত।’

তবে ইজারাদার আলহাজ আব্দুস সাজ্জাদ ও জাহাঙ্গীর আলম টিটুর দাবি, তাঁরা ইজারার টাকা পরিশোধ করেছেন; তহবিলে জমা না হলে তার দায় পৌরসভার।

অভিযোগের বিষয়ে পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক আহসান হাবীব নিজের দায় এড়িয়ে সাবেক মেয়র আব্দুর রশিদ খান ঝালুর ওপর দায় চাপিয়ে বলেন, ‘সাবেক মেয়র নিয়মবহির্ভূতভাবে বাকিতে হাট ইজারা দিয়েছিলেন। আর উত্তোলিত ২৫ হাজার টাকায় স্ট্যাম্প কেনা হয়েছিল, যা ফাইলেই রয়েছে। তৎকালীন পৌর প্রশাসক মামলা না করায় তা এগোয়নি।’ সাবেক মেয়র বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে নাচোল পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি যোগদানের পর বকেয়ার বিষয়টি জেনে বর্তমান জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। সার্টিফিকেট মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে মামলা করা হবে।