কৃষি খবর ডেস্ক: রংপুর অঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। এই ধান কাটার পর কৃষকেরা জমিতে আগাম শীতকালীন ফসল চাষ করেন।

বোরো ধান কাটার কিছু দিনের মধ্যেই জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে আগাম জাতের আমন ধান চাষ করা হয়।এই জাতের ধান কাটার পর জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা হয়। শীতকালীন সবজি ঘরে তোলার পর কৃষকেরা জমিতে আবার বোরো ধানের চাষ করেন।

কৃষকেরা জানান, সাধারন আমন ধান কাটার উৎসব শুরু হয় নভেম্বরের শুরুতে। একমাস আগে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়। আগাম জাতের আমন ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর বিঘাপ্রতি ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

রংপুরের পাগলাপীর এলাকার কৃষক সুরেশ চন্দ্র বর্মণ (৬৫) জানান, সাধারণ উঁচু জমিতে আগাম জাতের আমন চাষ করা হয়। এসব জমিতে কখনই পানি জমে থাকে না। তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমনচাষ করেছেন। তিন বিঘা জমি থেকে ধান পেয়েছেন ৪৯ মণ। অবশিষ্ঠ দুই বিঘা জমির ধান এক সপ্তাহ পরে কাটা হবে। আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এ বছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু আগের বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আমন ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ করেন।’