কৃষি খবর ডেস্ক: বাংলাদেশে বাণিজ্যিক চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়েছে কালো আখের নতুন জাত ‘ব্ল্যাক রুবি’। বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট—বিএসআরআই চলতি বছরের মার্চে দীর্ঘ গবেষণার পর জাতটি অনুমোদন দেয়। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এটি ‘ফিলিপাইনের কালো আখ’ নামেও পরিচিত।

বিএসআরআইয়ের প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আনিছুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮ থেকে ৯ বছর আগে সাভারের একটি নার্সারি থেকে আখটির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর গবেষণা, প্রদর্শনী চাষ ও কৃষক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে জাতটি অবমুক্ত করা হয়েছে।

কী কী বৈশিষ্ট্য রয়েছে ব্ল্যাক রুবিতে?

কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই আখ তুলনামূলক নরম, রসালো এবং চিবিয়ে খাওয়া সহজ। উপযুক্ত পরিচর্যায় মাত্র ১০ থেকে ১১ মাসে গাছটি প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ফুট লম্বা হতে পারে। আখটি বেশ মোটা হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে অন্য কিছুর সঙ্গে বেঁধে রাখতে হয়।

বিএসআরআইয়ের বিজ্ঞানীর দাবি, প্রচলিত কিছু জাতের তুলনায় এতে ক্যালসিয়াম, জিংক ও আয়রনের পরিমাণ বেশি। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা জিআই ৪০ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে এই তথ্য থেকে আখটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। আখে প্রাকৃতিক চিনিও থাকে, তাই রক্তে শর্করার সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
কোথা থেকে এলো এই আখ?

আখটির উৎস নিয়ে বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তাদের একজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ঢাকার বৃক্ষমেলা থেকে জাতটি সংগ্রহের পর কৃষকদের দিয়ে পরীক্ষামূলক চাষ করানো হয়। অন্যদিকে, বিএসআরআইয়ের গবেষকেরা সাভারের একটি নার্সারি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে গবেষণা শুরু করেন। ফিলিপাইনের জাত হিসেবে পরিচিত হলেও এর উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশে আখ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত অর্থবছরে দেশে প্রায় ২১ লাখ টন আখ উৎপাদিত হয়েছে। নতুন জাতটির চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষকদের জন্য আরও একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প তৈরি হতে পারে।