কৃষি খবর ডেস্ক: লক্ষ্মীপুর জেলায় নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ ও গুঁড়া তৈরি হচ্ছে। নারকেলের আঁশ (ফাইবার) থেকে জাজিম, গদি, দড়ি, স্লিপার (জুতা), খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী তৈরি হয়। ফাইবার তৈরির সময় প্রচুর গুঁড়াও উপজাত হিসেবে উৎপাদিত হয়। এসব গুঁড়া বা কোকোডাস্ট কৃষিকাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেসব বাগানে মাটির অভাব রয়েছে, সেখানে এসব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়।
ছোবড়া প্রসেসিং কারখানা গড়ে উঠেছে জেলার রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ, সদর উপজেলার দালাল বাজার, মান্দারী, চন্দ্রগঞ্জ, রামগঞ্জ উপজেলার পানপাড়া, মীরগঞ্জ, সোনাপুর, কমলনগর উপজেলা হাজিরহাট, রামগতির আলেকজান্ডার ও জমিদারহাটে। এসব এলাকায় ছোট-বড় প্রায় ৩০টি কারখানা রয়েছে। প্রতিটি কারখানায় নারী ও পুরুষ মিলে কমপক্ষে ৮-১০ জন শ্রমিক কাজ করেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, লক্ষ্মীপুর জেলায় ২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় রয়েছে নারকেলগাছ। গত এক বছরে শুকনা নারকেল ও ডাব মিলিয়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এই জেলায় ২৫-২৬ অর্থবছরে ২৭ হাজার ১২০ মেট্রিক টন নারকেল উৎপাদন হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৮১ কোটি টাকা।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজারের একটি কারখানায় দেখা যায়, কারখানা চত্বরে নারকেলের ছোবড়ার স্তূপ। ডিজেলচালিত ছোবড়া কাটার যন্ত্রে ছোবড়া কেটে ছোট ছোট খণ্ড করা হচ্ছে। সেই খণ্ড হাত দিয়ে ছিঁড়ে আঁশ পৃথক করছেন কয়েকজন নারী ও পুরুষ। এই আঁশ রোদে শুকানো হচ্ছে। পরে শুকনা আঁশ পরিমাপ করে প্লাস্টিকের সুতা দিয়ে বেঁধে তৈরি করা হচ্ছে গাঁট। গাঁটকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘বেল’ (২০ কেজিতে ১ বেল)। ছোবড়া থেকে আঁশ ছাড়ানোর সময় বের হওয়া গুঁড়া বস্তায় ভরে একপাশে স্তূপ করা হচ্ছে। এই ছোবড়া ও গুঁড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়।
এ কারখানার মালিক গাজী হাসমত জানান, একটি নারকেলের ছোবড়া কেনা হয় ২ থেকে ৩ টাকায়। ছোবড়া থেকে পাওয়া ছয় থেকে সাত ট্রাক আঁশ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় এই কারখানা থেকে। প্রতি ট্রাক আঁশের দাম ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা। ভালো দামে বিক্রি হয় ছোবড়ার গুঁড়াও। স্থানীয় নারকেল ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তারা ছোবড়া সংগ্রহ করেন। কারখানায় ৮-১০ জন শ্রমিক ছোবড়া থেকে আঁশ বের করেন।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জহির আহমেদ বলেন, ‘জেলায় ২ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান রয়েছে। ২৫-২৬ অর্থবছরে ২৭ হাজার ১২০ মেট্রিকটন নারকেল উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার মূল্য আনুমানিক ৮১ কোটি টাকা। উপকূলীয় জেলা হিসেবে নারকেলের আবাদ বাড়ছে। এ বছর প্রণোদনা হিসেবে আমরা প্রায় ৪০ হাজার নারকেল চারা বিতরণ করেছি। এখানকার কৃষকরা নারকেল ও ডাবের মূল্য বেশি পাওয়ায় নারকেল চাষ বাড়ছে।’






